বঙ্গোপসাগরের ইতিহাসে আম্পান একটি বিরল ঘূর্ণিঝড় এমনটিই মনে করছেন দীর্ঘদিন ধরে দেশের দুর্যোগ নিয়ে গবেষণা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. বিশ্বজিৎ নাথ।
কেননা, একসঙ্গে এত বিশাল উপকূলজুড়ে ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃতি এর আগে দেখেনি কেউ। সমুদ্রের প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার জুড়ে ছিল এর বিস্তৃতি।
এত শক্তিধর আম্পানকেও হার মানতে হয়েছে। হার মেনেছে এক বিশাল প্রকৃতির কাছে। যে প্রকৃতি কালে কালে বাঁচিয়েছে এই বাংলাকে।
রয়েল বেঙ্গলের গর্ব সুন্দরবন জিতেছে, হার মেনেছে ক্ষমতাধর আম্পানও। তাই আবারো সবার কণ্ঠে উঠে এলো সুন্দরবন সংরক্ষণের আহ্বান।
কয়েক দশকের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় বলা হয় এই আম্পানকে। বাতাসের গতি কিংবা ঢেউয়ের তীব্রতা সবদিক থেকেই বিরল এক ঘূর্ণিঝড় ছিল সুপার সাইক্লোন আম্পান।
আর তীব্রতাকে এবার শুধু বুক পেতে সহ্য করা নয়, বরং ঘূর্ণিঝড়কে আড়াল থেকে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ করেছে সুন্দরবন। যা বাংলাদেশমুখী এ ঝড়কে ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি করেছে দুর্বলও। যার ফলে ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেয়েছে পুরো দেশ।
ড. বিশ্বজিৎ নাথ বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে এর কারণে অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। এই পরিবর্তন হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়গুলোর গতিপথও পরিবর্তন হতে বাধ্য।
সুন্দরবন বার বার আমাদের রক্ষা করলেও ঝড়ের পরে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বিপদ বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করে পরিবেশবিদরা বলছেন, পুরো উপকূলকে রূপ দিতে হবে অনেকগুলো সুন্দরবনে।
দেশের স্বার্থে সুন্দরবনের আশপাশে পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম বন্ধেরও আহ্বান আবারো তুলে ধরলেন পরিবেশবাদীরা।
জলবায়ুবিদ ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, পরবর্তীতে ক্যাটাগরি ৪ এবং ৫ স্লাইকোনের শঙ্কা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া সাইক্লোনগুলো অনেক শক্তিশালী ও বৃষ্টিপাত নিয়ে হবে।
সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, যতবার এই অঞ্চল দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়, আমরা সুন্দরবনের অবদান সম্পর্কে বুঝে যাই।
সুন্দরবন আছে, সুন্দরবন থাকবে। প্রকৃতির বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রবে। যত ঝড় ঝাপটা আসুক, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করবে। আর দিন শেষে শ্রান্ত-ক্লান্ত হয়ে বলবে, প্রিয় বাংলাদেশ ভয় পেও না। আমি তো আছি!

