প্রায় দেড় যুগের পেশাদার ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত চারটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবে খেলছেন রোনালদো। কোন ক্লাবের হয়েই টানা দুই ফাইনালে পরাজিত হননি তিনি। ইতালিতে গিয়ে সেই অভিজ্ঞতাও হলো তার।
বুধবার রাতে ক্যারিয়ারের ৩০তম শিরোপার লক্ষ্যে বুধবার রাতে কোপা ইতালিয়ার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন রোনালদো, প্রতিপক্ষ নাপোলি।
কিন্তু পুরো ম্যাচেই বিবর্ণ ছিলেন রোনালদো নিজে, ভালো করতে পারেনি তার দলও। তবু গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনের দৃঢ়তায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই ঘটে বিপর্যয়। প্রথম দুই শটেই গোল করতে ব্যর্থ হন জুভেন্টাসের পাওলো দিবালা এবং দানিলো।
যার ফলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হেরে যায় জুভেন্টাস। পঞ্চম শট নেয়ার কথা থাকলেও, সেটি আর নিতে পারেননি রোনালদো। কেননা চতুর্থ শটেই নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের ফল। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো টানা দুই ফাইনাল হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও পান রোনালদো।
সবশেষ ২০১৩-১৪ মৌসুমের কোপা ইতালিয়া জিতেছিল ঐতিহ্যবাহী দল নাপোলি। এরপর আর কোন শিরোপা জেতা হয়নি তাদের। অবশেষে ছয় বছর পর ২০১৯-২০ মৌসুমের কোপা ইতালিয়া দিয়েই কাটল শিরোপা খরা।
গত বছরের শেষ দিকে ইতালিয়ান সুপারকোপার ফাইনালে লাজিওর কাছে হেরেছিল জুভেন্টাস। আর এবার কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে পরাজয় নাপোলির বিপক্ষে।
রোমের ফাইনাল ম্যাচে প্রায় পুরোটা সময় আধিপত্য বিস্তার করেছে নাপোলিই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস সে অর্থে তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি।
দলের সেরা তারকা রোনালদো পুরো ম্যাচে শট নিতে পেরেছেন মাত্র ৩টি, যার দুইটিই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। অন্যটি ফিরিয়ে দিতেও খুব একটা বেগ পাননি নাপোলি গোলরক্ষক।
বারবার নাপোলির আক্রমণ থেকে নিজেদের জাল অক্ষত রাখেন আগামী জানুয়ারিতে ৪৩ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া জুভেন্টাস গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে অবশ্য পান ভাগ্যের সহায়তা। লরেন্সো ইনসিগনের ফ্রি কি বাধাপ্রাপ্ত হয় সাইডবারে।
বিরতির ঠিক আগে দিয়ে ফের আক্রমণে ওঠেন ইনসিগনে, এবারও রক্ষাকর্তা বুফন। তবে তিনি দলকে বড় বাঁচা বাঁচিয়েছেন দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত যোগ সময়ে।
ম্যাচের ৯৩ মিনিটে খুব কাছ থেকে হেড করেন সার্বিয়ান ডিফেন্ডার নিকোলা মাকসিমোভিচ। বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকান বুফন, ফিরতি বলে আবার শট হয়। সেটিও ঠেকিয়ে কোনমতে জাল অক্ষত রাখেন বুফন।
ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে নায়ক নাপোলি গোলরক্ষক মেরেট। জুভেন্টাসের প্রথম শট নেন পাওলো দিবালা, ঠেকিয়ে দেন মেরেট। দ্বিতীয় শটে বারের অনেক ওপর দিয়ে মারেন দানিলো।
অন্যদিকে টানা চার শটে গোল করে শিরোপা উল্লাসে মাতে নাপোলি। তখনও বাকি ছিলো রোনালদোর পঞ্চম শটটি।

