টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাইরে থাকায় দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবে বিরতির ইতি টানতে ঘরোয়া ক্রিকেটে নামার প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। এর মধ্যেই আজ শুক্রবার আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সবকিছু ঠিক থাকলে ৯ মার্চ ঢাকায় পৌঁছাবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
দুই দেশের মধ্যকার এই সিরিজে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচগুলো হবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ, ভেন্যু একটিই—মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা গত কয়েক সপ্তাহ কার্যত বিশ্রামেই ছিলেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত অনুশীলনে মনোযোগ দিয়েছেন, কেউ আবার ফিটনেস ক্যাম্পে সময় কাটিয়েছেন। বিসিবি সূত্র বলছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ম্যাচ-ফিটনেস ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
ক্রিকেটের ভাষায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ আর ঘরোয়া ক্রিকেটের গতি আলাদা। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে স্থানীয় লিগে খেলা ক্রিকেটারদের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে।
আগামী মাসে শুরু হওয়া এই সিরিজকে শুধুই আরেকটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই হিসেবে দেখছে না বিসিবি। চলতি বছরে আইসিসির বড় কোনো ইভেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না থাকায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোকেই পারফরম্যান্স যাচাইয়ের প্রধান মঞ্চ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে পাকিস্তান দলের নেতৃত্বে থাকা সালমান আলি আগার অধীনে দলটি সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। উপমহাদেশের কন্ডিশনে তাদের অভিজ্ঞতা থাকায় সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আইসিসির মেগা ইভেন্টের বাইরে থাকলেও ২০২৬ সাল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ব্যস্ত সূচির বছর হতে যাচ্ছে। বছরের মধ্যে মোট নয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ—যা দল গঠন, নতুন খেলোয়াড় যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় সুযোগ এনে দেবে।
এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) শেষে এপ্রিল মাসে আবারও বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে পাকিস্তান দলের। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলতি বছরে একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মিরপুরের গ্যালারিতে দর্শকদের সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় শক্তি। তবে সাম্প্রতিক সময়ের অনিয়মিত পারফরম্যান্স সমর্থকদের মাঝে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে। পাকিস্তান সিরিজ তাই শুধু পয়েন্ট বা পরিসংখ্যানের লড়াই নয়, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও এক মঞ্চ।
সব মিলিয়ে, মার্চের এই সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য হতে পারে এক নতুন শুরুর বার্তা। বিরতির পর মাঠে ফেরা ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সই বলে দেবে—এই বছরটি কেবল ব্যস্ততার নয়, সাফল্যেরও হতে চলেছে কি না।

