এক অবিশ্বাস্য রান উৎসবের সাক্ষী থাকল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। টি-২০ বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল সূর্যকুমার যাদবের ভারত। দুই ইনিংস মিলিয়ে রেকর্ড ৪৯৯ রানের এই ম্যাচে বোলারদের কার্যত পাড়ার স্তরে নামিয়ে আনলেন ব্যাটাররা। ৩৪টি ছক্কার এই থ্রিলারে শেষ হাসি হাসল ভারতই।
শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই ও ভারতের দাপট
বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ভারত তোলে ২৫৩ রানের পাহাড়সম স্কোর, যা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন যেন এদিন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছিলেন; মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ৭টি বিশাল ছক্কা। এছাড়া শিবম দুবের ৪৩ এবং ঈশান কিষাণের ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস ভারতকে আড়াইশ রানের মাইলফলক পার করতে সাহায্য করে।
২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডও লড়াই ছাড়েনি। জ্যাকব বেথেল মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের এক অবিশ্বাস্য শতরান করে ভারতকে প্রায় হারের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। তবে অভিজ্ঞ জাসপ্রিত বুমরাহ এবং হার্দিক পান্ডিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২৪৬ রানে থামে ইংলিশদের দৌড়। ৩টি ছক্কা মেরে শেষ ওভারে জোফরা আর্চার চেষ্টা চালালেও ব্যবধান ঘোচাতে পারেননি।
এক নজরে ম্যাচের মূল পরিসংখ্যান
রেকর্ড রান: দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে মোট ৪৯৯ রান সংগৃহীত হয়েছে, যা টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
ছক্কার বৃষ্টি: পুরো ম্যাচে মোট ৩৪টি ছক্কা হয়েছে (ভারত ১৯টি, ইংল্যান্ড ১৫টি)।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্য: ভারতের পক্ষে সঞ্জু স্যামসন (৮৯) এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে জ্যাকব বেথেল (১০৫) ম্যাচ মাতিয়েছেন।
মাইলফলক: টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত এই নিয়ে চতুর্থবার ফাইনালে উঠল।
ম্যাচ বিশ্লেষণ ও বোলারদের ভূমিকা
ওয়াংখেড়ের পাটা উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই ছিল না। এর মধ্যেও জাসপ্রিত বুমরাহর ১৮তম ওভারটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যেখানে রানের বন্যা বইছিল, সেখানে বুমরাহ মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচ ভারতের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম বলেই সেঞ্চুরিয়ান বেথেলকে রান আউট করে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং মিস এবং সঞ্জু স্যামসনকে জীবনদান দেওয়া তাদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিসের মাশুল ইংল্যান্ডকে গুনতে হয়েছে ২৫৩ রান হজম করে।
এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। আগামী রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেন ইন ব্লু-রা।

