সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার। যখন নাগরিক জীবনের ব্যস্ততা থমকে দাঁড়ায় বিশ্রামের খোঁজে, তখন ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। শপথ গ্রহণের পর থেকে জনসেবার অঙ্গীকার রক্ষায় বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি।
কর্মব্যস্ত তেজগাঁও: বিরামহীন সরকার পরিচালনা
সকাল থেকেই তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছিল প্রাণবন্ত। সাধারণ মানুষের মনে এক সময় ধারণা ছিল যে, সাপ্তাহিক ছুটিতে রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের কাজ স্থবির থাকে। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রথা ভেঙে এক নতুন কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার টানা তৃতীয় শনিবারের অফিস।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী কেবল একাই নন, বরং তার গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টামণ্ডলী ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও আজ দিনভর দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতেই এই অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছেন সরকারপ্রধান।
উপদেষ্টামণ্ডলীর তৎপরতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়
শনিবারের এই বিশেষ কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও দক্ষ তিন উপদেষ্টা। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিজ নিজ দপ্তরের নথিপত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রশাসন ও অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের উপদেষ্টাদের উপস্থিত থাকা ইঙ্গিত দেয় যে, সরকার এই মুহূর্তে প্রশাসনিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও শিক্ষা খাতের উপদেষ্টার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ কোনো রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে।
উপদেষ্টাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও আজকের কর্মদিবসে উপস্থিত ছিলেন। তথ্য আদান-প্রদান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
আজকের বিশেষ কর্মদিবসের মূল দিকগুলো:
টানা তিন শনিবার: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টানা তিন সপ্তাহের সাপ্তাহিক ছুটিতেও অফিস করেছেন তারেক রহমান।
উপদেষ্টাদের অংশগ্রহণ: অর্থ, জনপ্রশাসন এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
নতুন কর্মসংস্কৃতি: আমলাতন্ত্রের চিরাচরিত মন্থর গতি কাটিয়ে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তির জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জরুরি ফাইল নিষ্পত্তি: জমে থাকা দাপ্তরিক কাজ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা
দীর্ঘ ১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকারপ্রধানের এমন নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা আমলাতন্ত্রের ওপর ইতিবাচক চাপ তৈরি করে। যখন শীর্ষ নেতৃত্ব বিশ্রামের বদলে কাজকে বেছে নেন, তখন মাঠপর্যায়ের প্রশাসনেও তার প্রভাব পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘উইকেন্ড অফিস’ প্রথা কেবল একটি প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি বার্তা।
বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অর্থ উপদেষ্টার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ খাতে যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তার রূপরেখা তৈরিতেই হয়তো আজকের এই দীর্ঘ সেশন ব্যয় হয়েছে।

