বুধবার ভোরে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের অদূরে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তোলেদো প্রদেশের উর্দা (Urda) শহরের কাছে একই লাইনে চলতে গিয়ে থেমে থাকা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের পেছনে অন্যটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
আঞ্চলিক সরকারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীবাহী ট্রেন দুটি একই গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। কোনো অজ্ঞাত কারণে সামনের ট্রেনটি লাইনের ওপর স্থির অবস্থায় ছিল। পেছনের দ্রুতগতির ট্রেনটি নির্ধারিত গতিতে ছুটে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। ফলস্বরূপ সরাসরি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির পেছনে আঘাত করে এটি। বিকট শব্দের এই সংঘর্ষের পর পরই দুটি বগি পুরোপুরি লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। ভোরের আলো ফোটার আগেই এমন আকস্মিক বিপর্যয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্ধকার থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধার কাজ শুরু করতেও জরুরি সেবাকর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিভিল প্রোটেকশন ইউনিটের সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বগিগুলোর ভেতর থেকে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে মাদ্রিদের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা সামনের হাসপাতালগুলোর আপডেটের ওপর ভিত্তি করে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।
ইউরোপের অন্যতম আধুনিক ও দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক রয়েছে স্পেনে। দেশটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ব্যবসা, পর্যটন ও ব্যক্তিগত কাজে এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে রেল ভ্রমণের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্পেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সিগন্যাল বিভ্রাট, যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসতর্কতা—ঠিক কী কারণে একই লাইনে দুটি ট্রেনের এমন মর্মান্তিক সংঘর্ষ হলো, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্ঘটনার পরপরই মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনের ওই রুটের সব ধরনের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বিকল্প পথে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। স্পেনের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

