পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল নতুন করে কোনো সামরিক উসকানি দিলে তার পরিণতি পুরো বিশ্বের জন্য ভয়াবহ হবে বলে বুধবার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নতুন এ সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ চেইনে এমন এক বিপর্যয় নামবে যার চরম ভুক্তভোগী হবে খোদ সরবরাহকারী দেশ ও সাধারণ ভোক্তারা।
গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাকর অবস্থায় রয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার অভিযানের পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে ইসরায়েলি নেতৃত্ব ইরানি তেল বা পারমাণবিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়ে আসছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটলে তা শুধু ভৌগোলিক সীমানায় আটকে থাকবে না। হরমুজ প্রণালি হয়ে বিশ্বের সামুদ্রিক তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটটি কোনো কারণে অনিরাপদ হয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মুহূর্তের মধ্যেই আকাশচুম্বী হতে পারে। আব্বাস আরাঘচি তার বার্তায় মূলত এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকির দিকেই বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক সংঘাত এড়াতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। রিয়াদ, দোহা, বাগদাদ ও কায়রোসহ মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীগুলো সফর করে তিনি ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করেছেন। আরব দেশগুলোকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কোনো রাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে হামলার জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তবে তেহরান তাকে শত্রুতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করবে।
আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতি অনেকাংশেই পারস্য উপসাগরের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী এই অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়াটা প্রায় অবধারিত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সংঘাতের আঁচ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর গায়েই লাগবে না, বরং তেল আমদানিকারক উন্নত রাষ্ট্রগুলোও এর চরম মূল্য চোকাতে বাধ্য হবে। সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার তীব্র শঙ্কা রয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো যখন করোনা-পরবর্তী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা সামলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, তখন তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা তাদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।

