বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে সম্ভাবনা



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য, ব্যবসা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। ২৮ অক্টোবর টোকিওতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন সমঝোতাগুলোর বাস্তবায়ন সফল হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, কর্মসংস্থান, কৃষি উৎপাদন এবং উপকূলীয় নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর ও ঋণের প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যায় না।

ছয়টি সহযোগিতা দলিলের একটি হলো বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য অনুদান চুক্তি। এ জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন ইয়েন বা ১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। জাহাজটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবিলা, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানো।

কৃষি খাতেও নতুন উদ্যোগ রয়েছে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার মাধ্যমে কৃষি সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আরেকটি সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতাও এই দলিলগুলোর অংশ। বিশেষ করে জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কতজন কর্মী নতুন সুযোগ পাবেন বা কখন থেকে কর্মসূচি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

জাপানের ঋণ প্রতিশ্রুতির মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১৫.৮৮ বিলিয়ন ইয়েন বা ১০০.৮ মিলিয়ন ডলার এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৩০.৬৮ বিলিয়ন ইয়েন বা ১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার রয়েছে। প্রথম প্রকল্পটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে এবং দ্বিতীয়টি স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারে সহায়তা করার কথা।

২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠকে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিআইজি-বি উদ্যোগকে ‘বিআইজি-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করার বিষয়ে একমত হন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা রয়েছে। এটি প্রত্যাশিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের হিসাব, নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়িত ফল নয়।