ইসরায়েল নির্বাচন: ঝুলন্ত পার্লামেন্ট, সরকার গঠনে দীর্ঘ দর-কষাকষির শঙ্কা



ইসরায়েল নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রধান রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো। এর ফলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিরোধীদের নতুন সরকার গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে দেশটিতে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাওয়া আংশিক ফলাফলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ৫৬টি আসনে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে, তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে গঠিত বিরোধী জোটের দখলে রয়েছে ৪৮টি আসন। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে (Knesset) সরকার গঠন করতে হলে যেকোনো জোটকে অন্তত ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমান সমীকরণে নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী শিবির—কেউই এককভাবে ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারছে না। বাকি আসনগুলোতে অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দল ও আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো জয় পেয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষ হলেও ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি এখন ছোট দলগুলোর হাতে চলে গেছে।

গত কয়েক বছরে ইসরায়েলকে বারবার সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। রাজনৈতিক বিভাজন এতটাই প্রকট যে, কোনো সরকারই দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারছে না। ইসরায়েলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থায় ছোট দলগুলোর পার্লামেন্টে প্রবেশের সুযোগ বেশি থাকে। এ কারণে একক দলের পক্ষে সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। স্পষ্ট কোনো বিজয়ী না থাকায় ইসরায়েলের রাজনীতি এখন এক দীর্ঘমেয়াদি দর-কষাকষির পর্বে প্রবেশ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের এই আলোচনা কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি মাসের পর মাস ধরে চলতে পারে। অতীতেও দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য এমন দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা দেখা গেছে। ছোট দলগুলো নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য দর-কষাকষির এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাবে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব বা বিশেষ কোনো নীতিগত সুবিধা আদায়ের বিনিময়ে তারা জোটে যোগ দিতে রাজি হয়। জোট শরিকদের এমন বাড়তি চাপ ভবিষ্যৎ সরকারের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে দাপটের সঙ্গে টিকে থাকা নেতানিয়াহুর জন্য এবারের ফলাফল বেশ বড় একটি ধাক্কা। দুর্নীতির নানা অভিযোগ এবং বিচারব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে দেশজুড়ে হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে এই নির্বাচন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক প্রকার অগ্নিপরীক্ষা ছিল। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তাকে এখন আরও চরমপন্থি বা কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর দ্বারস্থ হতে হবে। সরকার গঠন করতে পারলেও শরিকদের চাপে তাকে অনেক ছাড় দিতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর তিনি জোট গড়তে ব্যর্থ হলে বিরোধীরা সরকার গঠনের সুযোগ পাবে, যা নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনামলের অবসান ঘটাতে পারে।