এআইয়ের জোয়ারে চাঙা মার্কিন অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ



কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং ভোক্তাদের ব্যয় বৃদ্ধির জেরে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বার্ষিক হিসাবে ৩.৪ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা আগের প্রান্তিকের ২.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেখায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পরও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি সম্প্রসারণের গতি ধরে রেখেছে। তবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, প্রযুক্তিপণ্যের দাম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।

মার্কিন অর্থনীতির সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি হলো এআই অবকাঠামো নির্মাণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ডেটা সেন্টার, কম্পিউটার, চিপ, সফটওয়্যার ও গবেষণায় ব্যয় বাড়াচ্ছে। এসব বিনিয়োগ সরঞ্জাম উৎপাদন ও ক্রয়, প্রযুক্তি পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে চাহিদা তৈরি করছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয় বার্ষিক হিসাবে ৩.৮ শতাংশ বেড়েছে। আবাসন খাত বাদে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বেড়েছে ১২.৭ শতাংশ। তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ সরঞ্জামে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৭.৪ শতাংশ, সফটওয়্যারে ৯.৬ শতাংশ এবং গবেষণা ও উন্নয়নে ৭.৫ শতাংশ।

তবে সব খাত সমানভাবে এগোয়নি। উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদের কারণে আবাসন খাতে বিনিয়োগ তৃতীয় প্রান্তিকে ৩.৩ শতাংশ কমেছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির মধ্যেও কিছু খাতে দুর্বলতা রয়ে গেছে।

এআই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ প্রযুক্তিপণ্য, বিদ্যুৎ, নির্মাণশ্রম এবং ডেটা সেন্টারের মতো অবকাঠামোর ওপর চাহিদা বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন, এআই অবকাঠামো তৈরির গতি চিপ, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তবে এআই বিনিয়োগই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির একমাত্র কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।

এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (PCE) অনুযায়ী, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগস্টে ছিল ৩.৪ শতাংশ। একই সময়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির ব্যয়ও অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।

বাংলাদেশের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন বাজারে চাহিদা ও বিনিয়োগের গতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতের ব্যবসায়িক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রবৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান একাই বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত করে না; ক্রেতাদের চাহিদা, মূল্য প্রতিযোগিতা, শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হবে।