পরিবারপিছু শিক্ষা খরচের বোঝা বাড়িয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: ইউনেসকো


পরিবারপিছু শিক্ষা খরচের বোঝা বাড়িয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান: ইউনেসকো


বেসরকারি বিদ্যালয় ও পাঠদান প্রতিষ্ঠানের বৃদ্ধি বাংলাদেশে পরিবারপিছু শিক্ষা খরচের বোঝা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেসকো।

মঙ্গলবার প্যারিস ও ঢাকা থেকে একযোগে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।

ইউনেসকো বলছে, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে মোট খরচের ৭১ শতাংশের জোগান আসে পরিবারগুলো থেকে, যা শিক্ষা খাতে পরিবারপিছু খরচের বিবেচনায় বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শিক্ষা খাতে পরিবারপিছু বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খরচ করা অঞ্চল হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, যেখানে শিক্ষা খাতের খরচের ৩৮ শতাংশের জোগান দেয় পরিবারগুলো। এরমধ্যে নেপালে এই খরচের হার ৫০ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৭ শতাংশ। বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বেসরকারি উদ্যোগ বেড়ে চলেছে, যারা প্রায় ক্ষেত্রেই বেশি খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে পরিবারে প্রাইভেট পড়ানোতে খরচ ২০০০ সালের ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১০ সালে ৫৪ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে এই খরচ ৪৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৭ শতাংশ হয়েছে। যেখানে দেশের প্রাক প্রাথমিকেই ২০ শতাংশ শিশুর প্রাইভেট টিউটর রয়েছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে খরচ বাড়ার এই প্রবণতা উঠে এসেছে ইউনেসকোর এই জরিপে।

আরও পড়ুনঃ “কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ কমেছে”

ইউনেস্কোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১০ এর দশকে বাংলাদেশ সরকার বার্ষিক দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আড়াই শতাংশের কম খরচ করেছে শিক্ষা খাতে, যার পরিমাণ জাতিসংঘের সুপারিশ করা ৪ শতাংশ সীমার অনেক নিচে। আর এ কারণে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর অতিরিক্ত চাপ এবং সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানে অসন্তোষের কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ছে বলে ইউনেসকোর পর্যবেক্ষণে উথে এসেছে।

এছাড়া প্রাইভেট পড়ানো, ও শিক্ষা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিকাশও এই বেসরকারি শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখছে।