প্রধানমন্ত্রীর নিকট বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ১০ দফা দাবি


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

করোনা-মহাসংকটে বিপন্ন ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের বাঁচাতে ১০ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।

আজ ২০ মে বুধবার জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর ও ফুলবাড়ি এই চারটি উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়।। উলিপুরে দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ফজলুর রহমান, ফণিভুষন সহ ১৪-১৫ জন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সদস্য মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

অন্যদিকে রাজারহাট উপজেলায় উপেন্দ্রনাথ রায়, নুর মোহাম্মদ আনছার, উৎপল রায়, ফুলবাড়ি উপজেলায় আঃ মালেক, শচীন্দ্র নাথ রায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সুব্রতা রায়, আক্তারুল ইসলাম রাজু, জমীর উদ্দিন প্রমুখ সদস্যসমূহ যথাযত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল সাড়ে এগারোটায় উক্ত কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত ১০ দফা দাবিসমূহ:

১) করোনা মহামারি দুর্যোগকালে কর্মহীন দুঃস্থ ও গ্রামীণ মজুররা যাতে খাদ্য পায়, সেজন্য ৫০ লাখ নয়, ২ কোটি কর্মহীন দুঃস্থ পরিবারের তালিকা করতে হবে এবং সেই তালিকা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসগুলোতে সর্বসম্মুখে টাঙিয়ে দিতে হবে, এবং তালিকা প্রস্তুতির কাজে প্রয়োজনে সেনা-সহায়তা নিতে হবে। যে কমিটিকে তালিকা প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেয়া হবে, সেই কমিটিতে ক্ষেতমজুর প্রতিনিধি রাখতে হবে। তালিকাভুক্ত এসব কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে আগামী ৩ মাস বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে।

২) স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলে, খসড়া তালিকাটিকে যাচাই করে দেখার জন্য অন্তত ৭ দিন তা জনসমক্ষে রাখার পর সেই তালিকা চূড়ান্ত করে, তালিকাভুক্ত ২ কোটি পরিবারকে স্থায়ী রেশনিং ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে, এবং নিয়মিতভবে তাঁদেরকে ‘কন্ট্রোল দামে’ রেশন দিতে হবে।

৩) করোনা মোকাবিলা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষেতমজুরদেরকে ৭ দিনের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়োগপূর্বক ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা গণ-
ব্রিগেড’ গঠন করতে হবে।

৪) এ সময়কালে করোনাসহ বিভিন্ন রোগে গ্রামের গরিব মেহনতি পরিবারের যে সব সদস্য অসুস্থ হবেন, তাঁদের জন্য বিনামূল্যে ঔষধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের স্বাস্থ্য- সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা-কালীন সময়ে ও বজ্রপাতে কারও মৃত্যু হলে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে।

৫) মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অথবা উপযুক্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬) ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের দৈনিক মজুরি কমপক্ষে ৮০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সম-কাজে সম-মজুরি দিতে হবে।

৭) ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের কর্মসৃজন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা (পল্লি রেশনিং) এবং নিখরচায় শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য আগামী বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।

৮) গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে গরিব শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে ‘তোলা’ আদায় বন্ধ করতে হবে এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রতিটি হাট-বাজারে গরিবদের কাছ থেকে টোল বা ‘তোলা’ নেয়া যাবে না মর্মে নোটিশবোর্ডে বড় করে লিখে দিতে হবে।গ্রামে-গঞ্জে রিকশা, ভ্যান, ভটভটি, অটোচালক প্রমুখদের কাছ থেকে বেআইনি চাঁদা আদায় বন্ধ করতে হবে।

৯) গ্রামের প্রান্তিক কৃষক, কিংবা অল্প জমি লিজ বা ভাড়া নিয়ে যেসব কৃষক ধান উৎপাদন করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি সরকার বেঁধে দেওয়া ২৬ টাকা কেজি দরে ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষকদের জন্য ঘোষিত সরকারি প্রণোদনার টাকা সরাসরি খোদ কৃষককে দিতে হবে।

১০) ক্ষেতমজুরদের সব ঋণ/ কিস্তি (মহাজনী, এনজিও, ব্যাংক ঋণ) মওকুফ করতে হবে। একইসঙ্গে করোনা-পরবর্তী সময়ে তাঁদের জন্য বিনা মর্টগেজে সুদমুক্ত সরকারি ঋণ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুব্রতা রায় বলেন, করোনা- মহাসংকটকালে বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রত্যেকই খারাপ আছেন কিন্তু খুবই বিপন্ন অবস্থায় রয়েছেন ক্ষেতমজুর সহ গ্রামীন মজুররা।

স্বল্প আয়ের- প্রতিদিনের উপার্জন দিয়ে চলা এই মানুষ গুলির উপার্জন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা নানা সময় নানাভাবে এই মানুষ গুলির জন্য দাবী উত্থাপন করেছি কিন্তু তেমন কাজ হয়নি। এবার আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার প্রত্যেক উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমাদের দাবী লিখিত আকারে পেশ করছি।

এই প্রান্তিক মানুষগুলি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে আমাদের টিকিয়ে রাখছেন। মহাবিপদে তাদের সুস্থ্য রাখাই পক্ষান্তরে সকলের আগামিকে সুস্থ্য রাখা।

এই সংকটকালেও বিভিন্ন অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করবার মতো বলে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন,এমতাবস্থায় আমরা প্রত্যেকেই যদি সোচ্চার থাকি, মানুষের পাশে থাকি, জনগনকে সাথে নিয়ে আওয়াজ তুলি তাহলে মানুষের অধিকার মানুষ ফিরে পেতে পারে।

পেপার’স লাইফ/চন্দন কুমার সরকার/জেলা প্রতিনিধি