মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধানল আরও তীব্র করে তুলে বিশ্ববাণিজ্যের প্রধানতম ধমনীতে তৈরি হয়েছে মারাত্মক হরমুজ প্রণালি সংকট। তেহরান ও ওয়াশিংটনের রণংদেহী অবস্থান এবং হুংকার আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এক অভূতপূর্ব ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক সামরিক পদক্ষেপ ও বাগযুদ্ধের জেরে পারস্য উপসাগরের এই জলসীমায় যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কাঁপছে পুরো বিশ্ব।
সামুদ্রিক বাণিজ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রটি সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশারদ আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনুর মতে, কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নিরাপত্তার পারদ এখন প্রায় সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্থির হয়ে আছে। জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন অগণিত তেলের ট্যাংকার ও পণ্যবাহী জাহাজ এই অঞ্চল অতিক্রম করে, যা এখন প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তায় ভুগছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার স্বার্থে শান্তির বার্তা বা কূটনৈতিক সমাধানের কোনো উদ্যোগ কার্যকর হতে দেখা যাচ্ছে না। উভয় দেশের সেনাপ্রধান ও নীতিপ্রণেতাদের আক্রমণাত্মক মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা উসকে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারি সংঘাতকে শুধু সমুদ্রসীমায় সীমাবদ্ধ রাখেনি। স্থলভাগের সামরিক স্থাপনাগুলোকেও সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কার আওতায় নিয়ে এসেছে এটি। মার্কিন প্রশাসন ও পেন্টাগন এ ধরনের হুমকিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষা অবস্থান জোরদার করেছে।
একই সঙ্গে ইরানের নৌবন্দর ও সংশ্লিষ্ট জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি সংকট আজ কেবল দুই দেশের সামরিক লড়াইয়ের বিষয় নয়, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা অবকাঠামোকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে এই সরু প্রণালিটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের মোট ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হাইড্রোকার্বন ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয় এই একক পথটি দিয়েই। ফলে জলপথে অবরোধ কিংবা সামরিক হামলার শঙ্কা তীব্র হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যে।

