পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে নতুন অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ায় কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
প্রথম ইউনিটের আগের ধাপের ফিজিক্যাল ও পদার্থবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন পর্যায়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বায়েরা। এই ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
পরীক্ষার আওতায় থাকবে রিঅ্যাক্টর, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি। উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর সময় সব ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে নিরাপদে কাজ করছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবেন প্রকৌশলীরা।
এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করা। গ্রিডের নির্ধারিত ফ্রিকোয়েন্সি ও অন্যান্য কারিগরি শর্ত মেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব কি না, পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বর মাসে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করছেন কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) রিঅ্যাক্টর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট; দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট সক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায়।
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উৎস যুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্পটি বাংলাদেশের পারমাণবিক প্রযুক্তি পরিচালনা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন্দ্রটির বাস্তব অবদান নির্ভর করবে নিরাপত্তার শর্ত পূরণ, নির্ভরযোগ্য উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর।
সাধারণ গ্রাহকের জন্যও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এর ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি বা লোডশেডিং সঙ্গে সঙ্গে দূর হয়ে যাবে; এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যায় না।

