যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আশায় কমল তেলের দাম, হরমুজ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি



হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে; তবে প্রণালিটি পুরোপুরি সচল হওয়া বা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত অগ্রগতি নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ১১৩ দশমিক ৭৩ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমে ১০০ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ০৩ শতাংশ কম। কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত হামলা ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাজারের গতিপথে প্রভাব ফেলছে।

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়।

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তাদের কয়েকটি শর্ত মেনে নেওয়া হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব এখনো বিবেচনায় রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ১৮ অক্টোবর জানান, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পর্যালোচনা করছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি থমকে আছে; পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও মতপার্থক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

২৯ অক্টোবর রয়টার্সের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় একটি খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চললেও ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সেটিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন। একই সময়ে কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। অর্থাৎ আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও দ্রুত সমঝোতা হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

তেলের দাম কমার খবর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি ব্যয়, পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পের উৎপাদন খরচে চাপ বাড়তে পারে। জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়লে বীমা ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার কারণে এমন পরিস্থিতির প্রভাব অর্থনীতির একাধিক খাতে পড়তে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের দরপতন মানেই বাংলাদেশের পাম্পে জ্বালানির দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে, এমন নয়। আমদানি চুক্তি, পরিবহন ব্যয়, মজুত, বিনিময় হার ও দেশের মূল্য নির্ধারণব্যবস্থাসহ একাধিক বিষয় চূড়ান্ত দামে ভূমিকা রাখে।

বাজারে স্থায়ী স্বস্তি ফিরতে হলে কেবল আলোচনার খবর যথেষ্ট নয়; হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও ধারাবাহিক জাহাজ চলাচল এবং সংঘাত কমার বাস্তব প্রমাণ দরকার। তাই আপাতত তেলের দামের পতনকে সম্ভাব্য স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়, নিশ্চিত সমাধান হিসেবে নয়।