স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৬৯ মৃত্যু, নিয়ন্ত্রণকক্ষের সিদ্ধান্ত ঘিরে তদন্ত



স্পেনের ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার, ২৮ অক্টোবর, দেশটির মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশের উর্দার কাছে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়াগামী একটি দ্রুতগতির ট্রেন একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দিলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবারও উদ্ধারকাজ চলেছে, আর দুর্ঘটনার কারণ ও রেল পরিচালনার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকর্মীরা ক্রেন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করেছেন। স্পেন সরকার বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে।

দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি পরিচালনা করছিল স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফে (Renfe) এবং বেসরকারি সংস্থা ইরিও (Iryo)। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংকেতব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ওই রেলপথে কয়েকটি ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়। পরে নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশে রেনফের ট্রেনটি আবার স্বাভাবিক গতিতে চলতে শুরু করে, যদিও সামনে ইরিওর ট্রেনটি তখনও থেমে ছিল। এরপরই পেছন থেকে ধাক্কা লাগে।

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে নিয়ন্ত্রণকক্ষের ওই সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন। তবে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। সংকেতব্যবস্থার ত্রুটি, ট্রেন চলাচলের নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে তখন কী তথ্য ছিল—এসব বিষয় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

এই দুর্ঘটনা স্পেনের দ্রুতগতির রেলব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এটি ২০২৬ সালে দেশটিতে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দ্রুতগতির রেল দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে আদামুজে আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনা রেল অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দুর্ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিরোধী দলগুলোও রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও সতর্কবার্তাগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে। রেলকর্মীদের সংগঠনগুলোও নিরাপত্তা জোরদার ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টি সামনে এনেছে।