করোনা পরীক্ষার ভুয়া সনদ বিতরণসহ নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ অপরাধ করলে বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তার স্ত্রী সাদিয়া আরবি রিম্মি।
র্যাবের অভিযানের পর ৭ জুলাই দুপুরে সর্বশেষ মোবাইল ফোনে সাহেদের সঙ্গে কথা হয় তার। সাহেদ নিরাপদে আছে বলে তাকে জানিয়েছেন। এরপর থেকে সাহেদের মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাচ্ছেন স্ত্রী রিম্মি। তিনি জানান, তার ধারণা ছিল ২০০৮ সালে এমএলএম ব্যবসার ঘটনায় জেল খেটে সাহেদ শুধরে গেছেন।
স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর ওল্ড ডিওএইচএস ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন সাহেদ। ৬ জুলাই বিকালে সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর তিনি আর বাসায় যাননি বলে জানিয়েছেন স্ত্রী রিম্মি। তবে দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়িতেই রয়েছেন সাহেদের স্ত্রী।
রিম্মি বলেন, ‘এত কিছু আমি কখনোই টের পাইনি। কীভাবে ঘটলো এত সব! আমরা পুরো পরিবার শকড। সাহেদ কোনও অপরাধ করলে তার বিচার হওয়া উচিত। সবাই যেমন তার বিচার চাচ্ছে, আমিও তার বিচার চাই। এত স্পর্শকাতর একটা বিষয় নিয়ে তারা কীভাবে এটা করলো! এটা সত্যিই যদি ঘটে থাকে, তাহলে তার বিচার হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের আর কিছু বলার নেই।’
তিনি বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসা হচ্ছে এ নিয়ে আমরা আরও গর্ব করেছি। এত ভালো একটা উদ্যোগ। আমি নিজেও ফেসবুকে বারবার রিজেন্ট হাসপাতালের হটলাইন নম্বর প্রচার করেছি। যারা এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন, তাদের ফেসবুক রিভিউ আমি শেয়ার করেছি। আমরা মনে করেছি সাহেদ শুধরে গেছে।’
২০০৮ সালে এমএলএম ব্যবসার ঘটনায় মামলা হয়েছিল উল্লেখ করে সাহেদের স্ত্রী বলেন, ‘ওই সময়টা আমাদের পরিবারের জন্য বাজে সময় ছিল। সেই সময়টা আমরা কাটিয়ে উঠছি। সেটা সবাই জানেন।
এরপর নতুন করে সাহেদ ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে। ২০১৬ সালে হাসপাতাল ব্যবসা শুরু করেন। আমরা সবাই ভাবছি সাহেদ শুধরে গেছে। কিন্তু এখন দেখলাম ভিন্ন। সে শুধরে নাই। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তদন্ত হোক।’
সাহেদের প্রতারণার বিষয়ে কখনও কিছু জানতেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে স্বামীর সঙ্গে তো কোনও স্ত্রী সারা দিন থাকেন না। আমার সঙ্গে এসব কথা কখনও সে শেয়ার করতো না। বলতো না। তার কর্মচারীরাও কখনও বলতো না। কারণ, তারা জানতো এসব আমি কখনোই প্রশ্রয় দেবো না। তাই হয়তো বলতো না।’

