আগে থেকেই পাওয়া যাবে সৌরঝড়ের সংকেত



সম্প্রতি জার্মানির বিজ্ঞানীরা সময় মত সৌরঝড়ের পূর্বাভাস দিতে উদ্যোগী হচ্ছেন। আমাদের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্র সূর্য। মানবজাতি সারা বছর যত পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে, সেকেন্ডের ভগ্নাংশে সূর্যের মধ্যে একই পরিমাণ জ্বালানি সৃষ্টি হয়।

সূর্যের কাছে পৃথিবী আকার আয়তনে অনেক ক্ষুদ্র। সূর্য থেকে বৈদ্যুতিক কণায় ভরা মেঘ বারবার মহাকাশে বেরিয়ে আসে। তার থাবা পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এমন সৌরঝড়ের ফলে স্যাটেলাইটের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

১৯৮৯ সালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জার্মান পদার্থবিদরা সংবেদনশীল প্রযুক্তির সুরক্ষার লক্ষ্যে সৌরঝড় সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতে চান। সেই লক্ষ্যে তাদের আরও ভালোভাবে সূর্য পরীক্ষা করতে হবে।

বেশ কিছু স্যাটেলাইটের মধ্যেই সূর্য ও তার ঝড়ো বায়ুমণ্ডলের অতি সূক্ষ্ম ছবি সরবরাহ করেছে। লাইবনিৎস ইন্সটিটিউটের গবেষকরা সোলার অর্বিটার মহাকাশযানের মাধ্যমে এই প্রথম সৌরঝড়ের উৎপত্তি পর্যবেক্ষণ করতে চান। তার জন্য এই স্যাটেলাইটকে সূর্যের কাছে গিয়ে ১০ দিন ধরে একই অংশের দিকে নজর রাখতে হবে।

তাছাড়া এই স্যাটেলাইটের জন্য জার্মান পদার্থবিদরা গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র সৃষ্টির কাজে অংশ নিয়েছেন এবং আইনস্টাইন টাওয়ারে তা পরীক্ষাও করেছেন।

৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সৌর গবেষণার কাজ চলছে। এই ঐতিহাসিক ভবনে তারা এখন বিশেষ ধরনের টেলিস্কোপের জন্য জটিল যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করছেন। জোরালো রশ্মি থেকে সোলার অর্বিটার যান রক্ষা করতে বিশেষ এক তাপ নিরোধক বর্ম রয়েছে।

যানের মধ্যে একটি টেলিস্কোপ ভালো করে সূর্য পর্যবেক্ষণ করবে এবং তার বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উত্তপ্ত অংশগুলো পরীক্ষা করবে। সেসব জায়গায়ই সৌরঝড় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা সার্থক হলে সৌরঝড় সম্পর্কে আগে থেকেই সাবধান হওয়া যাবে।