পরিবেশের কি ক্ষতি করবে করোনাভাইরাস?


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

করোনা পরিস্থিতিতে যখন সারা বিশ্ব স্থবির হয়ে গিয়েছিল তখন অনেকেই দাবি করেছিলেন করোনাভাইরাস পৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ। অন্তত পরিবেশে কার্বণ নিঃসরণ কমে যাওয়ায় এমন দাবির কিছুটা সত্যতাও মিলেছিল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

ইতোমধ্যে লকডাউন শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব ক্ষয়ক্ষতিও আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। এখন কিছু বিশেষজ্ঞ ভয় পাচ্ছেন যে ভবিষ্যতে বিশ্বের ট্রাফিক ঝুঁকি হয়তো আরো বাড়বে, বাড়বে দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনও। যা কিনা বাড়তে পারে আগের চেয়ে আরো বাজেভাবে।

বিশ্বব্যাপী লকডাউনের শুরুতে গত বছরের তুলনায় দৈনিক বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন ১৭ শতাংশ নিচে নেমে আসে। কিন্তু ১১ জুনের ডাটা বলছে, একই অবস্থায় ২০১৯ সালে চেয়ে বর্তমানে কার্বন নির্গমন ৫ শতাংশ কম দেখাচ্ছে। অথচ এখনো বিশ্বের অনেক দেশেই কার্যত লকডাউন চলছে।

এ বিষয়ে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর কোরিনে লে কুইরে বলেন, এখনো সেই একই গাড়িগুলো রয়ে গেছে, সেই একই রাস্তাও রয়ে গেছে, আছে আগের শিল্প-কারখানাগুলো এবং একই বাড়িগুলোও। তাই যখনই বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হবে, আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাব আবার। এখন ঝুঁকিও অনেক বেশি, কারণ কার্বন উৎপাদন মহামারীর আগের সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে।

২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়কালের কথা উল্লেখ করে কোরিনে বলেন  খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন আমরা এমনটা করেছি। ২০০৭-০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের সময়ও শুরুতে কার্বণ নিঃসরণ কমে গিয়ে পরে আবার বেড়ে যায়।

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে তার একটি যথার্থ উদাহরণ চীন।

ভাইরাস আঘাত করার পর প্রথম দেশ হিসেবে শাটডাউন করা হয় চীনে এবং সবার আগে খুলেও দেয়া হয় এ দেশ। অন্য জায়গায় কী হতে পারে  তার একটি উদাহরণ হচ্ছে চীন। দেশটিতে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বাতাসের যে উন্নতি এসেছিল, তা কিনা এখন গায়েব হয়ে গেছে।

এখন ফ্যাক্টরিগুলো ক্ষতি পোষানোর জন্য কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মে মাসে এসে দূষণ আবারো করোনাপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। এমনকি কোনো কোনো জায়গায় কিছু কিছু সময়ের জন্য ছাড়িয়েও গেছে, পরে অবশ্য কিছুটা কমেছে। এর মাঝে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষগুলোও মরিয়া হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা হওয়ার জন্য। ফলে যুক্ত হয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পও। এখন নতুন এ প্রকল্প যদি অগ্রসরমান হয় তবে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যাও বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে করোনার প্রকোপে দিশেহারা ব্রাজিলে অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা অ্যামাজানে নিজেদের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। একটি ডাটা বলছে, গত বছর এপ্রিলের তুলনায় এ বছরের এপ্রিলে ৬৪ শতাংশ বেশি ভূমি উজাড় করা হয়েছে। যদিও ২০১৯ সাল ছিল এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে অধিক বন ধ্বংসকারী বছর।

এছাড়া প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো দীর্ঘদিন ধরেই অ্যামাজনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য দূতিয়ালি করে আসছেন। সে ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ কাঠুরেসহ অন্য ব্যবসায়ীরা অ্যামাজনে অল্পই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সামনের দিনে এসব ঘটনা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি, প্লাস্টিক, এয়ারলাইনস ও অটোমোবাইল শিল্প।

এ বিষয়ে ফ্রেন্ডস অব আর্থের সিনিয়র পলিসি অ্যানালিস্ট লুকাস রোজ বলেন, মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে যে দূষণকারীরা এই সংকট থেকে আরো সাহস অর্জন করবে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভবান হবে।

 

সূত্র; ন্যাশনাল জিওগ্রাফি