উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পিষ্ট সাধারণ মানুষ:: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা



দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গভীর এক অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ের অনিয়ম ও অব্যवस्था থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা এক ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, যার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। বুধবার এক মতবিনিময় সভায় দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও নাগরিক জীবনের চরম দুর্ভোগ তুলে ধরে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক ক্রান্তিকাল বিরাজ করছে। বাজারজুড়ে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সাধারণ পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক খরচের ফলে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আয় ও ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে না পেরে অনেকেই তাদের শেষ সম্বল বা জমানো সঞ্চয় ভাঙতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেকের ঘাড়ে চেপে বসছে ঋণের বোঝা, যা নাগরিক জীবনে গভীর মানসিক ও সামাজিক সংকট তৈরি করছে।

ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য হলো—প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। কর্মসংস্থানের স্থবিরতা এবং খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারে অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির ফলেই বিপুলসংখ্যক মানুষ চরম দরিদ্রতার দিকে ঠেলে তলিয়ে যাচ্ছে। অর্থনীতিতে বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটানো না গেলে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে এই অবস্থার দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয় বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

দেশীয় সংকটের ওপর আবার নতুন করে ছায়া ফেলেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অস্থিরতা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম হু-হু করে বাড়ছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমাদের দেশীয় বাজারে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।