বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ভূমিকা রাখছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার এ বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি। আজকে (১২ মার্চ) আমি পত্রিকায় দেখলাম, আমেরিকাতে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সারাবিশ্বে করোনাকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারত নতুন করে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সারাবিশ্বই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সারাদেশেই বিএনপির পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। সারাদেশের সব শাখাগুলোকে বলে দিয়েছি, তারা সজাগ থাকবে এবং আক্রান্ত মানুষদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘ব্যাংকের ছাতার মতো বেসরকারিভাবে মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হয়েছে। সত্যিকার অর্থে চিকিৎসক তৈরি হচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা, এটা কখনোই সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে হয় না। যেহেতু সরকার জোর করে ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের কাছে তাদের কোনও জবাবদিহিতা নেই।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি একটি গণদাবি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি জানান, বুধবার (১০ মার্চ) রাতে হিউম্যান রাইটসের ওপর মার্কিন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুডিশিয়ালি খালেদা জিয়ার মামলাটি ত্রুটিহীন নয়। বলা হয়েছে, তার মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক কারণেই বিলম্বিত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক দাবি করছি, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার আছে বন্দি থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসা পাওয়ার এবং জামিন পাওয়ারও অধিকার আছে। আমরা তো আইনের মধ্যে থেকেই জামিন চেয়েছি। আমরা আবারও বলছি সম্পূর্ণ মানবিক কারণে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান রয়েছে, তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।’
করোনা ভাইরাস নিয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা এত অপর্যাপ্ত যে, চিনা রাষ্ট্রদূতকে পর্যন্ত বলতে হয়েছে, এখানে স্ক্রিনিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে পর্যান্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়নি। এটা নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না।
আমরা বলছি যে, সরকার অনেক দেরি করে করোনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এর কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক কারণে, বর্ষ পালনের কারণে নজর দিতে পারেনি। আমাদের দেশসহ পৃথিবীতেই এই বিষয়টি নিয়ে খুব ভালো ধারণা নেই। যার ফলে এই সমস্যাকে নতুনভাবে দেখতে হবে।’

