গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হলেও বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এর পর পেরিয়েছে তিন মাস। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৬৮ হাজার ৫০৪ জন, মারা গেছেন ৯৩০ জনে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম মাসে অর্থাৎ মার্চ মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২১৮ জন। পরের মাসে শনাক্ত হয় প্রায় ১৩ হাজার রোগী। কিন্তু তৃতীয় মাসে এসে এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।
সরকারের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, সংক্রমণ বাড়ার এই ধারা লম্বা সময় ধরে চলতে পারে, তবে তাদের মতে সংক্রমণ এখনো লাফিয়ে লাফিয়ে ব্যাপক সংখ্যায় বাড়ছে না। একই সঙ্গে কবে থেকে তা কমতে শুরু করবে তা এখনো তারা বলতে পারছেন না।
করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সরকারের একটি কমিটির প্রধান অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ঢিলেঢালা লকডাউন, ঈদকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ মানুষের গ্রামে যাওয়া এবং শহরে ফিরে আসা, এসবের প্রভাবে সংক্রমণ এখন বেড়ে চলেছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রথম সংক্রমণের দেশ চীনে তিন মাসের মধ্যেই সংক্রমণ কমতে শুরু করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়াতেও নীচের দিকে নামতে শুরু করেছিল সংক্রমণের হার।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুনশি বলেছেন, এখন সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলা কঠিন।
তিনি বলেন, ‘এই তিন মাসে এখন যদি আমরা ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের চিত্র দেখি, এই তিনটি দেশেই কিন্তু সংক্রমণ ঊর্ধ্বমূখী। কিন্তু অন্যান্য দেশগুলো যেমন ইউরোপে কিন্তু এখন সংক্রমণের মাত্রা নিচের দিকে চলে এসেছে। এবং সেখানে তা তিন মাসের মধ্যেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আমাদের সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমূখী। এই অবস্থাটা কিন্তু অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বিপরীত।’
বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত সরকারের কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার তাদের পরামর্শ সরকার গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
কিন্তু লকডাউন কঠোর করাসহ জনস্বাস্থ্যমূলক তাদের পরামর্শকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের হার বাড়বে, সেটা ঠেকানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত আমাদের পরামর্শ মানা হয়নি। আমরা স্বাস্থ্যবিধি এখনো যদি না মানি, তাহলে সংক্রমণের হার আরো অনেক বাড়বে।’
সংক্রমণ যে ঊর্ধ্বমূখী থাকছে, কবে সংক্রমণ কমা শুরু হতে পারে-সে সম্পর্কে কর্মকর্তারা কোনো ধারণা করতে পারছেন না।
এদিকে সরকারের একাধিক নীতি নির্ধারক বলেছেন, তারাও মনে করেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে।
তবে তারা দাবি করেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তারা পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

