ব্ল্যাক হোলকে আলোয় এনেছেন তিনি



ব্লাক হোল বা কৃষ্ণ গহব্বরের একটি ছবি তৈরি করে রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন কেইটি ব্যোম্যান নামের মার্কিন এক কম্পিউটার বিজ্ঞানী।

ব্ল্যাক হোল মহাকাশের এমন এক রহস্য যা খালি চোখে দেখা যায় না। এটি আকারে প্রায় চার হাজার কোটি কিলোমিটার বা পৃথিবীর চেয়ে ৩০ লাখ গুণ বড়। এবং এটি আমাদের পুরো সৌর জগতের চেয়েও বড়।

এছাড়াও ২৬ বছর বয়সী ওই বিজ্ঞানী জানান, শুধুমাত্র একটি কম্পিউটার প্রোগ্রামের জন্য ছবিটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। ব্লাক হোলের এই ছবিটিতে একটি চক্র এবং গ্যাস দেখানো হয়েছে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বলে জানা গেছে।

ওই বিজ্ঞানী আরও জানান,  আমার বানানো প্রথম ব্ল্যাক হোলের ছবি যেটি পুননির্মাণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে,সেটি আমি দেখছি।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, যখন তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’র (এমআইটি) স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন তখন থেকেই তিনি এই প্রকল্পের জন্য অ্যালগরিদম লেখা শুরু করেন। এছাড়াও এর আগে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ে হেইস্ট্যাক অবজারভেটরির এক দল গবেষককে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বিবিসি রেডিওতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যোম্যান বলেন, “আমরা  যখন প্রথম এটি দেখেছি, আমরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অসাধারণ এক ঘটনা ছিলো এটি।” বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ব্যোম্যানের এই কাজের প্রশংসা করেছে।

ব্যোম্যান বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির কম্পিউটিং ও গণিত বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যপক হিসেবে নিযুক্ত আছেন। ব্ল্যাক হোলের ছবিটি তুলতে অ্যান্টার্কটিকা থেকে চিলি- বিভিন্ন স্থানে টেলিস্কোপ বসানো হয়েছে। ২০০ জনের বেশি সদস্যের বিজ্ঞানী দল এতে যুক্ত ছিলেন।

সিএনএনকে ব্যোম্যান বলেন, “আমাদের কেউই এটা একা করতে পারতো না। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক মানুষ এতে যুক্ত ছিলেন।”

এছাড়াও,  ব্যোম্যান এবং বাকিরা এমন কিছু অ্যালগরিদম বানিয়েছেন যা টেলিস্কোপিক ডেটাকে ছবিতে কনভার্ট করতে পারে।