“স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য”


রোহিঙ্গাদের ফিরতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী


সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। নতুনরা যেন সে লক্ষ্যেই কাজ করে।

রোববার সরকারি দলের এই দুই এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে সরকারি দলের এই দুই এমপির মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব তোলা হলে তা সর্বসন্মতক্রমে গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মার্যাদায় উন্নীত করতে পেরেছি। বাংলাদেশকে আরো উন্নত করতে হবে। সেটা সকলকে নিবেদিত প্রাণ হয়ে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সেবা করে যাবেন এটাই আমি চাই। মানুষের সেবা করাটাই সব থেকে বড় পাওয়া। এর চেয়ে বড় কিছু নেই। রাজনীতি নেতাদের জন্য এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আজকে যারা মারা গেছে তাদের অবদান রয়েছে যে কারণে আমরা এতদূর আসতে পেরেছি।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল কুদ্দুসকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্দুল কুদ্দুস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগ করতেন। তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। নাটোর ছিল সন্ত্রাসের জায়গা। তিনি সেখানে বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। যদিও তাকে জবরদস্তি করে হারানো হয়েছিল। তিনি জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন।

নেত্রকোনা-৪ আসনের (মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি-মদন) সংসদ সদস্য প্রয়াত রেবেকা মমিনকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেবেকা মমিনের সঙ্গে আমার ছাত্রজীবন থেকে পরিচয় ছিল। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যোলয়ের ছাত্রী থাকাকালে আমার পত্রবন্ধু ছিলেন। তিনি সবসময় চিঠি লিখতেন। আমিও উত্তর দিতাম। চিঠিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতেন। আমি কলেজে ভিপি হওয়ার পর চিঠি দিয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের বরেণ্য নেতা সদ্য প্রয়াত সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, মতিউর রহমান ময়মনসিংহ থেকে নির্বাচন করতেন। কিন্তু আমরা যখন জোট করি তিনি তার আসনটি বেগম রওশন এরশাদকে ছেড়ে দেন। তিনি যে কত বড় নেতা ছিলেন, যে মুহূর্তে আমি তাকে বললাম জোট করবো এই সিটটি ছাড়তে হবে, তিনি এক মুহূর্তের জন্যও আপত্তি করেননি। সঙ্গে সঙ্গে সিটটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। তা না হলে তিনি এখনো ওই সিটের এমপি থাকতেন।

শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনজাত পরিচালনা করেন সরকারি দলের এমপি মাওলানা রুহুল আমিন মাদানী। পরে সংসদের বৈঠক আগামীকাল সোমবার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। চলতি সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি করা হয়।

আরও পড়ুনঃশ্রীলংকা আর বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন: বাণিজ্যমন্ত্রী

শোকপ্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওয়াসিকা আয়শা খান, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাজ্জাদুর রহমান, শফিকুল ইসলাম শিমুল, আশরাফ আলী খান খসরু, আব্দুল আজিজ ও মসিউর রহমান রাঙ্গা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সরকার দলের দুই এমপি ছাড়াও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মতিউর রহমান, সাবেক এমপি পান্না কায়সার ও মোহাম্মদ উল্ল্যার মৃত্যুতে এদিন শোক প্রকাশ করে সংসদ।

এছাড়া বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) সুলতান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিরাজুল আলম খান, কবি মোহাম্মদ রফিক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরুর স্ত্রী কামরুন্নেছা আশরাফ দীনা, সংসদ সদস্য (যশোর-৩) নাবিল আহমেদের পিতা অনুনালুপ্ত দৈনিক আজকের কাগজ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পদক জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমেদ, সংরক্ষিত আসনের এমপি কানিজ ফাতেমা আহমেদের বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদ খান ও কৃষিবিজ্ঞানী কাজী এম বদরুদ্দোজার মৃত্যুতেও শোক জানানো হয়।