যে হত্যাকাণ্ডের ক্ষমা চায় নি ব্রিটেন



প্রায় ৪০০ নিরস্ত্র মুক্তিকামী ভারতীয় নাগরিককে জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যার ঘটনায় আজ পর্যন্ত ভারতের কাছে ক্ষমা চায় নি ব্রিটেন। তবে অনেকের দাবি হত্যার সংখ্যা আরও বেশি বলে উল্লেখ আছে।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে প্রায় এক হাজার নিরপরাধ হিন্দু, মুসলমান ও শিখকে গুলি করে হত্যা করে ইংরেজ বাহিনী।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরু থেকেই পাঞ্জাবে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। সৈন্য ও যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহে ব্রিটিশ শাসকদের জোরপূর্বক পদক্ষেপের কারণে মূলত এ ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সে সময় ইংরেজদের প্রণীত ব্ল্যাক অ্যাক্টসের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী হরতাল ডাকেন মহাত্মা গান্ধী। ১৯১৯ সালের ৩০ মার্চ ও ৬ এপ্রিল গান্ধীর ডাকা হরতাল পাঞ্জাবে তুমুল সাড়া পায়। মানুষের বিক্ষুব্ধ মনোভাব ও হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির ফলে ব্রিটিশ প্রশাসনের মধ্যে আতঙ্কের সঞ্চার হয়।

তুমুল বিক্ষোভের মুখে মহাত্মা গান্ধীর পাঞ্জাবে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে অমৃতসরে দুই জনপ্রিয় নেতা কিচলু ও সত্য পালকে গ্রেফতার করা হয়। এতে বিক্ষোভ আরো তীব্রতর হয়ে ওঠে। লাহোর, কাসুর, গুজরানওয়ালা ও অমৃতসরে গণবিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

অমৃতসরের একটি সমাবেশে পুলিশ গুলি করলে কিছু আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ ও সহিংস হয়ে ওঠে। পরদিন শহরের দায়িত্ব দেয়া হয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ারের হাতে। দায়িত্ব হাতে পেয়েই ব্যাপক হারে গ্রেফতার এবং মিটিং ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ডায়ার।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল বৈশাখী উৎসব চলাকালে জালিয়ানওয়ালাবাগের একটি মাঠে বিকালে সমাবেশ আহ্বান করা হয়। মাঠটি ছিল চারদিক থেকে ঘেরা। হাজারো মানুষ এ সমাবেশে উপস্থিত হয়। এসব মানুষের বেশির ভাগই আশপাশের গ্রাম থেকে অমৃতসরের মেলায় এসেছিল। মিটিং কিংবা জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। হঠাৎ করে কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই বাহিনী নিয়ে সমাবেশে হাজির হন ডায়ার এবং শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র মানুষের উদ্দেশে গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন। ডায়ারের অস্ত্রের মজুদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গুলিবর্ষণ চলতে থাকে। একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকে নিরপরাধ মানুষ।

সম্প্রতি এ ব্যাপারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকে লজ্জাজনক একটি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়নি এই দেশটী।