এবার করোনার মধ্যেই ভারতে নির্দেশ অনুযায়ী ‘কনটেনমেন্ট জোন’ ছাড়া সর্বত্র খুলেছে মদের দোকান। এর আগে দেশটিতে বর্ধিত লকডাউন নিয়ে আগেই নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই অনুযায়ী, শপিং মল ছাড়া অন্য দোকানে মদ বিক্রির অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। তবে ‘কনটেনমেন্ট জোন’-এ মদের দোকান খোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
সকাল দশটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান। মদের দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দামেই মদ বিক্রি শুরু হয়েছে।

গত সোমবার দিনভর মদ নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখলো ভারত। করোনার কারণে গত ৪০ দিন সমস্ত দোকান বন্ধ ছিল। সোমবার তা খুলতেই সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে রাস্তায় নামলেন মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিলেন মদের জন্য।
মানুষের মদ-পিপাসা যে কোন জায়গায় পৌঁছেছে তা ভালোভাবেই টের পাওয়া গেল। লকডাউনের কড়াকড়িঅনেকটা কমিয়ে দিয়ে সোমবার থেকে মদের দোকান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারপরই দেখা গেল এতদিন ধরে মদ খেতে না পারা লোকেরা সামাজিক দূরত্ব, করোনার হওয়া ভয় কোনও কিছুরই তোয়াক্কা না করে বিশাল লাইন লাগিয়েছেন মদের দোকানের সামনে। দেশের কোনও কোনও অঞ্চলে ভিড় সামলাতে লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে।
এদিকে দিল্লিতেও মদের দোকানের সামনে ছিলো ঠাসাঠাসি ভিড় এবং বিশাল লাইন। কোনও কোনও জায়গায় দোকানের তিনটি কাউন্টার থেকে মদ বিক্রি করা হচ্ছিলো। প্রতিটি কাউন্টার থেকে লাইন এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছিল কয়েক কিলোমিটার।

একজনের গায়ের ওপরে অন্যজন দাঁড়িয়ে। ৪০ দিন ধরে লকডাউনে থাকার পর মদের জন্য করোনাকে আর পাত্তা দেননি মদ্যপায়ীরা। অবস্থা দেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লিতে মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেন, করোনার খরচ তুলতে মদের ওপর ৭০ শতাংশ শুল্ক বসানো হলো।
তাতে অবশ্য মদের বিক্রিতে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের একাংশের।
শুধুমাত্র দিল্লিতেই ৮৫০টি মদের দোকান আছে। তার মধ্যে কিছু দোকান সরাসরি সরকার চালায়। পুলিশের নির্দেশিকা মেনে সরকারি মদ বিক্রির দোকান সকাল নয়টা থেকেই খুলে যাবে। সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তা খোলা থাকবে।
সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার দিল্লিতে ১৫০টির মতো মদের দোকান খুলেছিলো। কিন্তু সেখানে এত ভিড় হয়েছিলো যে এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে তা বন্ধ করে দিতে হয়।
উত্তর প্রদেশেও মদের দোকানের সামনে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে প্রথম দিনেই রেকর্ড ১০০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। এমনিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ কোটির বিক্রি হয়।

সোমবার কম সময়ের জন্য দোকান খুলেছিলো। তা সত্ত্বেও বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু লখনউতেই ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।
মদের দোকানের এই ছবিই বুঝিয়ে দিচ্ছে, লকডাউনের কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার পর অধিকাংশ জায়গায় মানুষ কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। রাস্তায় আবার গাড়ি নেমেছে। সবুজ এলাকাগুলিতে বাস চলাচল করছে। লোকে অনেক বেশি রাস্তায় নেমেছেন। সামাজিক দূরত্বও বিশেষ রক্ষিত হচ্ছে না।

