কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন-ও ঢাকা ট্রিবিউন এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান জামিন পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ ১৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।
এরপর দুপুর বারোটার পর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাকে। আরিফুল ইসলামের স্ত্রী মোস্তারিনা সরদার নিতু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ওর শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ওকে অনেক মারধর করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট(অর্থোপেডিক) ডা, ইউ কে রায় বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো রয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি। এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ধরে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।
এ সময় তার বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়, যদিও আরিফ ধূমপান করেন না। আরিফের স্ত্রী জানান, মধ্যরাতে কিছু আগন্তুক তাদের বাসায় এসে দরজা ধাক্কাতে থাকেন ও দরজা খুলতে বলেন।
আরিফ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দেননি। এরপর আরিফ কুড়িগ্রাম থানায় যোগাযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ তার বাসায় কোনও অভিযান চালানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেন। এরমধ্যেই আগন্তুকরা দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে।
তবে তারা কোনও তল্লাশি অভিযান চালায়নি। তারা বাসায় ঢুকেই কোনও কারণ না জানিয়ে আরিফকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকবার গুলি করার হুমকিও দেয় আগন্তুকরা। এর এক ঘণ্টা পর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে খুঁজে পায়।
প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

