এবার ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনের ঘটনায় তাবলিগ জামাতকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানালেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে, দিল্লির নিজামুদ্দিনে ধর্মীয় জমায়েত করে তাবলিগ জামাত। এতে সেখানে চীন-মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সদস্যরা সেখানে জড়ো হন। এই নিজামউদ্দিনই হয়ে ওঠে ভারতে করোনার উত্স্যভূমি।
ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যত করোনা আক্রান্ত প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে, তাদের অনেকেই কিন্তু তাবলীগের ওই জমায়েতে ছিলেন।
এ বিষয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শুক্রবার যে রিপোর্ট দেন, তাতে বলা হয়, দিল্লিতে করোনায় মৃত ৪ জনের মধ্যে ২ জনই উপস্থিত ছিলেন নিজামউদ্দিনে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এখনও পর্যন্ত যত জন তাবলীগের সদস্যকে চিহ্নিত করা গিয়েছে, তাদের একটা বড় অংশের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাসের জীবাণু।
সবমিলিয়ে দিল্লির ওই মসজিদের ধর্মীয় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ১২ জন এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন। ৬৪৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই মুসলিমদের এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত এই লেখিকা।
নিজের করা এক ট্যুইটে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ‘নির্বাচিত কলম’-এর লেখিকা।

তসলিমা লেখেন, তাবলীগ জামাতের উদাসীনতায় বহু মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। তাই তাবলীগ জামাতকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
দিল্লির নিজামুদ্দিনের এই জমায়েত নিয়ে এর আগেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন, তাবলীগ জামাত হচ্ছে, গণ্ডমূর্খদের সংগঠন। উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, তাজাকিস্তানের মতো দেশ এই সংগঠনটিকে আগেই নিষিদ্ধ করেছে।
তার দাবি, জামাতের সঙ্গে পরোক্ষে যোগ রয়েছে সন্ত্রাসবাদের। শুধু ভারত নয়, বিশ্বের সব দেশে এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়া উচিত বলেই তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ৩০৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় এ দেশে আরও ৫২৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা গিয়েছে।
দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, আক্রান্তদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২১৩ জন সম্পূর্ণ করোনা মুক্ত। এ ছাড়া ২,৭৮৪ জনের চিকিৎসা চলছে।
পেপার’স লাইফ/নিউজ/আন্তর্জাতিক ডেস্ক

