ভারতে পিক টাইম নভেম্বরে? বিশ্বে গড় সময় ৪৭ দিন!


করোনায় আক্রান্তের রেকর্ড

আক্রান্ত শীর্ষ ৪০ দেশের মধ্যে পিক টাইম অতিক্রম করা ২৫টি দেশের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিকাল বিশ্লেষণ করে করে জানা গেছে, প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে সর্বোচ্চ সংক্রমণকাল (পিক টাইম) অতিক্রম করতে একটি দেশের গড়ে সময় লাগছে ৪৭ দিন।

এছাড়া অঞ্চলভেদে পিক টাইমের বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষ ৪০ দেশের মধ্যে পিক টাইম অতিক্রম করা ২৫টি দেশের অধিকাংশেরই ভৌগোলিক অবস্থান ইউরোপে। এ অঞ্চলের দেশগুলোর সর্বোচ্চ সংক্রমণে পৌঁছতে গড়ে পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগেছে। তবে অন্য অঞ্চলগুলোর কোথাও কোথাও সময় লেগেছে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত। শীর্ষ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩ মার্চ রোগী শনাক্ত হয় মাত্র ১০ জন। এর ৩৮ দিন পর ১০ এপ্রিলে সেখানে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ৪২৫ জনের (সাত দিনের গড় আক্রান্ত) শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় এই সময় লেগেছে ৫৩ দিন।

গত ২০ মার্চ সেখানে আক্রান্ত হয় মাত্র ৩০ জন। গত ১২ মে সেখানে সর্বোচ্চ আক্রান্ত (১০ হাজার ৯৮২ জন) ধরা পড়ে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংক্রমণকাল অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ৩৮ দিন। স্পেনে সময় লেগেছে ৩১ দিন। একইভাবে পিক টাইম অতিক্রম করতে সময় লেগেছে ইতালিতে ৩৩ দিন, পেরুতে ৬৮, ইরানে ৩৯, জার্মানিতে ৩১, তুরস্কে ৩১, ফ্রান্সে ২৮, কানাডায় ৫২, চীনে ৪৫, কাতারে ৮৫, বেলজিয়ামে ৮৫, বেলারুশে ৫১, নেদারল্যান্ডসে ৪৩, ইকুয়েডরে ৪০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬৭, সিঙ্গাপুরে ৫০, পর্তুগালে ২৪, কুয়েতে ৫৯, সুইজারল্যান্ডে ২৬, ফিলিপাইনে ৮৮, আফগানিস্তানে ৭৩ ও আয়ারল্যান্ডে ৪০ দিন।

সর্বোচ্চ সংক্রমণ অতিক্রম করা এই ২৫টি দেশের মধ্যে ইউরোপেরই ১২টি। এসব দেশের পিক-এ উঠতে সময় লেগেছে গড়ে ৩৬ দিন। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২৪ দিন লেগেছে পর্তুগালে; আর সর্বোচ্চ ৫৩ দিন লেগেছে রাশিয়ায়। উত্তর আমেরিকার দুটি দেশে (যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮ দিন, কানাডায় ৫২) গড়ে সময় লেগেছে ৪৫ দিন।

এশিয়ার ৯টি দেশে গড়ে ৫৯ দিন লেগেছে সর্বোচ্চ সংক্রমণে উঠতে। এর মধ্যে ইরানে সবচেয়ে কম ৩৯ দিন লেগেছে; আর সর্বোচ্চ ৮৮ দিন লেগেছে ফিলিপাইনে। দক্ষিণ আমেরিকার দুটি দেশে (ইকুয়েডরে ৪০ দিন, পেরুতে ৬৮) গড়ে সময় লেগেছে ৫৪ দিন।

অন্যদিকে আক্রান্ত শীর্ষ ৪০ দেশের মধ্যে বাকি ১৫ দেশে বর্তমানে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ দেশই শিগগিরই সর্বোচ্চ সংক্রমণকাল অতিক্রম করতে পারে। অল্পসংখ্যক আক্রান্ত থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত ধরা পড়তে ব্রাজিলে সময় লেগেছে ৮৫ দিন।

এছাড়াও মেক্সিকোতে সময় লেগেছে ৮৬ দিন, পাকিস্তানে ৮৯, সৌদি আরবে ৬৩, বাংলাদেশে ৬৯, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮৫, সুইডেনে ১০২, কলম্বিয়ায় ৮৯, মিসরে ৯৯, ইন্দোনেশিয়ায় ৯৬, ইউক্রেনে ৮৯, আর্জেন্টিনায় ৯০ ও পোল্যান্ডে ৯৩ দিন।

ভারতে এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি তৈরি হতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছে। যদিও ভারতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হতে নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) গঠিত অপারেশনস রিসার্চ গ্রুপের সমীক্ষার বরাতে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ভারতে করোনার সংক্রমণ শীর্ষ ছুঁতে পারে মাঝ-নভেম্বরে। আর তখন ঘাটতি দেখা দিতে পারে আইসিইউ শয্যা ও ভেন্টিলেটরের।

সমীক্ষাটি বলছে, জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আওতা ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো গেলে মহামারির প্রকোপ কমতে পারে। লকডাউনের সময়ে পরিকাঠামো যেভাবে বেড়েছে, তাতে শীর্ষ ছোঁয়ার পরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ শতাংশ এবং নতুন রোগীর সংখ্যা ২৭ শতাংশ কমে আসতে পারে।