কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন- এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে তুলে নিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট।
আরিফুল ইসলামকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের জেলার লুৎফর রহমান। তাকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাতে ডিসি অফিসের দুই-তিন জন ম্যাজিস্ট্রেট ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় আরিফুলের বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তারা।
সাংবাদিক আরিফুলের স্ত্রী জানান, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে খাওয়া শেষে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় হঠাৎ কে বা কারা দরজা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে আমার স্বামী ফোনে স্বজনদের বিষয়টি জানান। এক পর্যায়ে দরজা ভেঙে তারা আমার স্বামীকে মারধর শুরু করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও মারতে উদ্যত হয়। পরে আমার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহফুজুর ইসলাম বলেন ‘আমরা জানতে পেরেছি ডিসি অফিসের লোকজন মোবাইল কোর্টের জন্য আরিফুলকে নিয়ে গেছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন আরিফুল।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম কে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কলামিস্ট ও সমাজকর্মী নাহিদ হাসান নলেজ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন,
যিনি আমাকে সিগারেট খাওয়ার জন্য গালি দেন, যিনি আমার দেখা সবচেয়ে সৎ সাংবাদিক, তাকে মধ্য রাতে মোবাইল কোর্টের নামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ জানাই। এটা পরিষ্কার ক্ষমতার অপব্যবহার।
সাংবাদিক কল্লোল রায় লেখেন,
কিছু বলার নেই। শুধু মনে হচ্ছে আমাকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

