আরামকেদারা শব্দটি অপরিচিত লাগলেও জিনিসটা কিন্তু মোটেও অপরিচিত নয়। আমাদের অতি পরিচিত চেয়ারেরই বাংলা আরামকেদারা।
ব্যস্ত জীবনে অনেকেরই ঘরের চেয়ে অফিসেই বেশি সময় কাটে। অফিস এ নিজের চেয়ারে বসলেই চলে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এছাড়াও যারা অন্যান্য কাজ বা পড়াশোনা করছেন তাদের কেও চেয়ারে বসে থাকতে হয় অনেকটা সময়। অফিস এর বিভিন্ন ধরণের কাজ ও নিয়ন্ত্রণ করছেন এই চেয়ার এ বসেই।
কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন সেটি আরামদায়ক বা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা? এই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে আজকাল অনেকেই নানান রকম সমস্যায় পরছেন। যদিও এক জায়গায় বসে থেকে কাজ করার সুবিধা অনেক, তবে একটানা বসে কাজ করতে করতে পিঠ বা কোমরব্যথার বিপাকেও পড়ছেন অনেকে। মূলত ভুল ভঙ্গিতে বসার কারণেই এসব সমস্যা হয়ে থাকে।
আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের গবেষকরা বলছেন অন্য কথা,তারা বলছেন, যাদের দীর্ঘসময় চেয়ারে বসে কাজ করার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের ঘাড় ও কোমরব্যথার আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় বেশি। এইসব চেয়ারগুলোতে বসলে বাধে বিপত্তি, কারণ চেয়ারে পিঠ ঠেকিয়ে বসতে গেলে এই অংশের সঙ্গে চেয়ারের কোনো সংযোগ থাকে না। এভাবে দীর্ঘসময় বসে থাকলে কোমরব্যথা হতে পারে। তাই আমাদেরকে এমন চেয়ার ব্যাবহার করতে হবে যা সবসময় মেরুদণ্ডকে সদা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।
নিজের দেহের গঠন অনুযায়ী চেয়ার বানিয়ে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো। সেটি সম্ভব না হলে এমন চেয়ার কিনুন, যেটির পেছনটা মেরুদণ্ডের মতোই বক্র থাকবে। চেয়ার কেনা কিংবা বানানো কোনোটারই সুযোগ না থাকলে ছোট কুশন ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই চেয়ারে বাড়তি ব্যাক রেস্ট (একটু বাঁকানো) লাগিয়ে নেন। এটি অবশ্য তেমন কার্যকর নয়। আবার পিঠব্যথায় কখনো কখনো একটু কাজে লাগলেও এটির ব্যবহারে ঘাড়ে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ে।
এর পরও দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকার কারণে অনেকেই কোমর এবং পিঠের ব্যথায় আক্রান্ত হন। এই ব্যথা থেকে বাঁচতেই রইলো কিছু পরামর্শ;
চেয়ারে ঘাড় বা পিঠ বাঁকিয়ে বসবেন না সোজাভাবে বসুন। পিঠের নিচের অংশ ও চেয়ারের মধ্যে কোনো ফাঁকা রেখে বসা যাবে না। কম্পিউটার বা খাতা-কলমের কাজ যেটিই করুন না কেন, কাজের জিনিসগুলো রাখতে হবে নিজের সুবিধাজনক দূরত্বে। লেখার সময় এবং কি-বোর্ড বা মাউসের কাজ করার সময় হাতের আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো অংশটাই যেন টেবিলের ওপর থাকে। ঊরু থাকবে মেঝের সমান্তরাল। পা দুটি আরামদায়কভাবে মেঝেতে রাখুন। শরীরের কোনো অংশই দোদুল্যমান বা আনসাপোর্টেড অবস্থায় রাখা যাবে না। এভাবে বসলে পিঠ বা কোমরে যেমন ব্যথা হবে না, তেমনি ঘাড়ব্যথা থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন।
অনেক সময় আমরা কাজ করতে করতে একটু বিশ্রাম নিতে ভুলে যাই । তাই একটানা কাজ না করে কিছুক্ষণ পর পর উঠে একটু করে হাঁটুন। তাহলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে পিঠ ব্যথার সমস্যা হবে না এবং এতে করে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। আর আপনি পাবেন ঝামেলামুক্ত কর্মময় সারাদিন।
কাঠ, পারটেক্স বোর্ড বা সুবিধাজনক উপকরণ দিয়ে চেয়ার বানিয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া ফার্নিচারসহ বিভিন্ন আসবাবের দোকানে পাবেন কাজের উপযোগী চেয়ার, যেগুলোর পেছন দিকটা একটু বাঁকানো। দাম পড়বে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এগুলো থেকে দেখেশুনে নিজের সুবিধামতো চেয়ার বেছে নিন এবং আরাম ও ঝামেলামুক্ত জীবন যাপন করুন।

