গ্রাম আছে, মানুষ নেই!



একটি গ্রাম যার পুরোটা জুড়ে রয়েছে মাত্র ছয়টি পাথরের বাড়ি। স্পেনের উত্তরে গ্যালিসিয়ায় রয়েছে আকোরাদা নামের ছোট এই গ্রাম। অযত্নে সেগুলোও রং হারিয়ে ধূসর হয়েছে।

পুরো গ্রাম গত ৩০ বছর ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। স্থানীয়দের মুখে মুখে পরিত্যাক্ত এই গ্রামটিকে ঘিরে নানা ভূতুড়ে গল্পও শোনা যায়। তাদের বিশ্বাস , সন্ধ্যার পর এই গ্রামে নেমে আসে ভৌতিক কিছু। চারদিকের পরিবেশও থাকে থমথমে।

এই গ্রামটিকে বিক্রির জন্য একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে। যার দাম পড়েছে ৯৬ হাজার ডলার।

বিগত ৩০ বছর ধরে একেবারে ফাঁকা পড়ে আছে আকোরাদা গ্রাম। শুধু এখান থেকে চলে যাওয়া এক পরিবারের থেকে যাওয়া ৫৭ বছরের এক সদস্য তাদের এই গ্রামের দেখাশুনা করছে। কিন্তু কী এমন ঘটল যে নিজেদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলেন সেই পরিবারের সদস্যরা?

জানা যায়, পৃথিবী জুড়ে আর্থিক সংকটের কারণে বেঁচে থাকার তাগিদে ও উপার্জনের চেষ্টায় গ্রাম ছেড়ে শহরে বসবাস শুরু করেন অনেকে। আধুনিক জীবনযাপনের তেমন সুযোগও ছিল না এখানে। স্পেনের আকোরাদার মতো একের পর এক প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে ইউরোপের অনেক গ্রাম।

স্পেনের আকোরাদা গ্রামকে ঘিরে যে সব ভৌতিক গল্প আছে তা নিয়ে এর বর্তমান মালিক বলেন, ‘আসলে বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকার ফলে গ্রামের চেহারাই বদলে গিয়েছে। লোকজনের বসবাস না থাকায় চারদিকের পরিবেশও স্বাভাবিক ভাবেই থমথমে।’

ইউরোপের এমন অন্তত ৪০টি পরিত্যক্ত গ্রাম কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়েছেন। জায়গাগুলোর মালিকানা বদলের পর সেগুলোর পরিবেশও অনেকটাই বদলে গিয়েছে। গ্রামগুলোতে ফিরেছে প্রাণের স্পন্দন।

আশা করা হচ্ছে স্পেনের এই আকোরাদা গ্রামও একদিন প্রাণের স্পন্দন পাবে।