বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি অবস্থা জারি করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত ৪১ জনের মৃত্যুর পর এ ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সবাই মিলে এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব শিগগিরই জানাবো। বেসরকারি ল্যাব ও ভ্যাকসিন ডেভেলপাররা মাসে ৫০ লাখ মানুষের করোনা ভাইরাস টেস্ট করতে সক্ষম হবেন। বড় অঙ্কের অর্থ দেশের মানুষ ও প্রদেশের জন্য ব্যয় করা হবে।
প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবিলায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফেডারেল এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) সব রাজ্য ও স্থানীয় সরকারকে দুর্যোগ তহবিল সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ভাইরাসটির উৎপত্তির দেশ চীনে নতুন করে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ১৭৭ জনে। একইসঙ্গে দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২১ জন। তবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে ২৫০ জনের।
মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৪১ জন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬৫ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ১৭৬২ জন। অবশ্য এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩১ জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, গত আড়াই মাসে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় ১২৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এ ভাইরাসের প্রভাবে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, সেই কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন এ পর্যন্ত এক লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৯ জন। অবশ্য এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৩৮৭ জন।
এদিকে বাংলাদেশে যে ৩ জনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, সুস্থ হয়ে ওঠায় তাদের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৩৭৩ জনের। আর আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ সাড়ে ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ হাজারেও বেশি মানুষ।

