বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে এমন বিপর্যয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কখনো দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে মিশিগানের দ্য সেন্টার ফর অটোমোটিভ রিসার্চের প্রধান গবেষক ক্রিস্টিন জিজেক বলেন, আমার জানা মতে সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম ঘটনা আর ঘটেনি। গাড়ি শিল্পের বর্তমান অবস্থা কেবল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের সঙ্গেই তুলনীয় হতে পারে। তাছাড়া বিশ্বের সব গাড়ি নির্মাতারা একসঙ্গে কারখানা বন্ধ আর কখনো করেছে বলে আমার মনে হয় না।
বছরের শুরুতে ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে উহানসহ বহু শহর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে চীন। বন্ধ হয়ে যায় স্থানীয় ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। চীনের কারখানা বন্ধের কারণে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় বৈশ্বিক সরবরাহ প্রবাহ। এখন চীন ধীরে ধীরে ভাইরাসটির প্রকোপ থেকে মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে। এ অবস্থায় অঞ্চল দুটির ভারী শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে কারখানা বন্ধ করে দেয়া শুরু করেছে গাড়ি নির্মাতারা। তাদের এ পদক্ষেপ ভাইরাস মোকাবেলায় ঠিক যেন চীনের কার্যক্রমকেই প্রতিধ্বনিত করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের এ আশঙ্কা আরো দৃঢ় হচ্ছে। বুধবার নিজেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি এক ‘অদৃশ্য শত্রুর’ বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় সরকারকে শিল্প-কারখানা পরিচালনার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন।

