করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়-আতঙ্কে কাঁপছে পুরো দেশ। কারও হয়তো সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বর হয়েছে, মনে মনে শঙ্কা- ‘আমাকে করোনাভাইরাসে ধরেনি তো!’
ডাক্তারের কাছে গেলেই যদি করোনাভাইরাস বলে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়! মানুষ তো তখন আর গ্রামেই থাকতে দেবে না!
আবার অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে গেলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। সে জন্য অনেকে অন্য রোগে অসুস্থ হলেও ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন না। এছাড়াও অন্য রোগের জন্য গেলেও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না অনেকেই। ফলে অকালেই ঝড়ে পড়ছে অনেক প্রাণ।
এই সব সমস্যার একটিই সমাধান দেখেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।মাশরাফি বিন মুর্তজা যেন প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কিছু। একজন নেতা, একজন নায়ক। কখনো কখনো মহানায়ক বললেও কম বলা হয় না।
এমনই এক নেতার নেতৃত্বে তারই গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাঁর নির্বাচনী এলাকা নড়াইল ও লোহাগড়া উপজেলায় শুরু হয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা।
কেউ অসুস্থ বোধ করলে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা সেবার নম্বরে ফোন করে ঠিকানা দেবেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ডাক্তার চলে যাবেন তার বাড়ি। রোগী দেখে প্রয়োজনে কিছু ওষুধও দিয়ে আসবেন তারা।
মাশরাফি বলেন, ‘সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও ভয়ে এখন কেউ হাসপাতালে যাচ্ছে না। আবার অনেকের হয়তো অন্য অসুখ। তারাও করোনার ভয়ে হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতে কষ্ট পাচ্ছে। সে জন্যই লোহাগড়া ও নড়াইলে আমরা এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিয়েছি।’
মাশরাফি আরও জানান, ‘নড়াইল সরকারি হাসপাতালের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তবে তার মধ্যেই আমরা ১০ বেডের একটা করোনা সেন্টারের ব্যবস্থা করেছি। সেরকম কোনো রোগী পাওয়া গেলে তাকে এখানে এনে রাখা হবে। তারপর খুলনায় নমুনা পাঠিয়ে টেস্ট করা হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমরা দুই উপজেলা থেকে প্রতিদিন ২ জন করে ৪ জনকে পরীক্ষা করাতে পারব।’
জীবন বাজি রেখে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। যেখানে করোনা নিয়ে আতঙ্কে কেউ সরাসরি সাহায্য করতে ভয় পাচ্ছে। ঢাকার অনেক জায়গায় কয়ারেন্টাইন সেন্টারে বাঁধা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। সেখানে মাশরাফির মতো মহানায়ক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
এভাবেই লড়তে হয়, এভাবেই টিকতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য অন্যের কথা ভাবতেই হয়। তবেই তো সে জাতির নেতা, জাতির সেবক। তবেই তো সে মাশরাফি বিন মুর্তজা!
পেপারস লাইফ/স্পোর্টস ডেস্ক

