করোনা সংক্রমণে কাঁপছে পুরো দেশ। এরইমধ্যে অনন্য এক মানবতা দেখালেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরের ট্যাক্সিচালক সহিদুল লস্কর।
এর আগে নিজের সর্বস্ব দিয়ে গড়েছিলেন হাসপাতাল। এবার করোনা প্রকোপে নিজের করা সেই হাসপাতাল পুরোটাই করোনা রোগীদের কোয়ারেন্টাইনের জন্য দিয়ে দিলেন এই ট্যাক্সিচালক।

সহিদুলের আবেদনে সাড়া দিয়ে রাজ্যের তরফে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বারুইপুরের বিডিও মোশারফ হোসেন। হাসপাতালের পরিকাঠামো দেখে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরকে। প্রয়োজনে ৪০ থেকে ৫০ বেডের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে সহিদুলের হাসপাতালকে ব্যবহার করতে পারে রাজ্য।
বিডিও মোশারফ হোসেন জানান, এই হাসপাতালের পরিবেশ দারুন স্বাস্থ্যকর। সহিদুলের সচেতন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।” হাসপাতালের একটি ঘরেই স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে থাকতেন সহিদুল। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হলে তাদের জায়গা কোথায় এর উত্তরে সহিদুল বলেন, ‘আগে মানুষের সেবা’।

জানা যায়, ২০০৪ সালে চিকিৎসার অবহেলায় বোন মারুফার মৃত্যু হয়েছিল। অনেক হাসপাতালে ঘুরেও মারুফাকে বাঁচাতে পারেননি সহিদুল।
তখনি প্রতিজ্ঞা করেন অবহেলায় কাউকে আর মরতে দেবেন না। বোনের স্মরণে মানুষের দান করা অর্থে বারুইপুরের পুঁরি গ্রামে অবশেষে ৩ তলা হাসপাতাল গড়ে ফেলেছেন সহিদুল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে সহিদুলের প্রশংসা করেছিলেন। ‘মন কি বাতের’ পঞ্চাশতম সম্প্রচারে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৯১ সালে বারুইপুরের সীতাকুণ্ডু বিদ্যায়তন (হাই) থেকে মাধ্যমিক পাশ করে চম্পাহাটি সুশীল কর কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু অভাবের কারণে পড়াশোনা চালাতে পারেননি সহিদুল। ১৯৯৩ সালে ট্যাক্সির স্টিয়ারিং ধরেন। অবসর সময়ে কবিতা লেখেন।
পেপার’স লাইফ/খবর/আন্তর্জাতিক ডেস্ক

