করোনা সংক্রমণে ভীত হয়ে পড়েছে। নেই কোন বাছবিচার যেভাবে পারছে মানুষ করোনার ভয়ে লুকিয়ে থাকছে। কিন্তু এবার করোনা সন্দেহে অন্যরকম এক ঘটনা ঘটিয়েছেন নিজ সন্তানেরা।
জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে টার দিকে করোনা সন্দেহে এক মাকে টাঙ্গাইলের সখিপুরে এইক শাল বনে ফেলে রেখে যান সন্তানেরা। জানা যায়, তার সন্তানেরা ‘মা আজ রাত এখানে থাকো কাল এসে আমরা নিয়ে যাবো’ বলে বনে ফেলে রেখে যায় করোনা সন্দেহে।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সে মাকে বন থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠায়।
জানা যায়, ওই নারীর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়। গাজীপুরের সালনায় একটি পোশাক কারখানায় ওই নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা চাকরি করেন। সবাই মিলে সালনায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
কয়েক দিন ধরে ওই নারীর জ্বর, সর্দি, কাশি শুরু হলে আশপাশের বাসার লোকজন তাদের তাড়িয়ে দেন। একটি পিকআপভ্যান ভাড়া করে শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার পথে সখীপুরের জঙ্গলে সন্তানেরা মাকে ফেলে যান।
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে বনের ভেতর থেকে এক নারীর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা খবর দেয় আমাকে। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজন ওই নারীর কাছে যান।
ছেলেমেয়েরা কীভাবে তাকে জঙ্গলে ফেলে গেছেন সেই ঘটনা জানান ওই নারী। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে ওই নারীকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাতটায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহীনুর আলম বলেন, ওই নারীর জ্বর, গলাব্যথা, সর্দি ও কাশি আছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ থাকায় ওই নারীকে রাতেই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেখানে ভর্তির সুযোগ না পাওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ থাকায় ওই নারীর এক ছেলে, দুই মেয়ে ও জামাতারা মিলে তাঁকে বনে রেখে গ্রামে চলে যান।

