বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থনৈতিক যোগানের সবচেয়ে বড় উৎস যুক্তরাষ্ট্র। সেই উৎস এবার বন্ধ হতে চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, এ ব্যাপারে তার প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস কনফারেন্সে এ ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমনকি মহামারির প্রথম থেকেই হু চীনের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের।
প্রেস কনফারেন্সে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ‘চীনে এই ভাইরাসটির উৎপত্তির পর এর মোকাবিলায় তার মৌলিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং চীনের দেয়া তথ্যের ওপরেই বিশ্বাস করেছে তারা। এর অর্থায়ন বন্ধের জন্য আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি এবং এই নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকবে।’
মঙ্গলবার ট্রাম্পের এই ঘোষণায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি হু। তবে হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটিকে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির মেডিকেল ডিরেক্টর ও ইনফেকশাস ডিজিসেস স্পেশালিস্ট নাহিদ ভাদেলিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধকে ‘দুর্যোগের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম টুইটারে নাহিদ লিখেছেন, ‘গত শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মহামারি (কোভিড-১৯) চলাকালীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (যুক্তরাষ্ট্রের) ১৫ শতাংশ বন্ধের ঘোষণা নিশ্চিতভাবে একটি দুর্যোগ।’
জাতিসংঘের এই অঙ্গ-সংস্থাটির মোট বাজেটের ১৫ শতাংশই দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর সংস্থাটিকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই দেশটি।

