প্রাণঘাতী করোনায় সরকার ঘোষিত ছুটির মধ্যেও গতকাল শনিবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ফেরি ঘাট এলাকায় ছিল ঢাকামুখী কর্মজীবী মানুষের ভিড়। গণপরিবহন বন্ধের কারণে ভোগান্তি ও পথের নানা ঝক্কি পোহানোর মধ্য দিয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছিল কর্মস্থলে।
সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে তাদের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। তবে এর জন্য মোটা অঙ্কের টাকা তাদের গুনতে হয়। পাটুরিয়া থেকে নবীনগর পর্যন্ত প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, সিএনজি চেপে জন প্রতি পাঁচশ’ টাকা ভাড়া দিতে হয় যাত্রীদের।
ঘাটে আসা অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষের একই কথা, পেটের তাগিদ আর নিজেদের চাকরি বাঁচাতে মহামারি করোনার মধ্যেও কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। এদের মধ্যে অনেকেই আবার দোকানের কর্মচারীসহ এনজিও কর্মী। রবিবার (১০ মে) অনেক শপিংমল খুলবে, সেখানে তাদের যোগ দিতে হবে।
এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, এখন আর আমরা করোনার ভয় করি না, এখন আমাদের একটাই ভয় চাকরিটা না গেলেই হয়। কারখানা থাইক্যা এসএমএস দিছে, রবিবারের মধ্যে কাজে যোগ দিতে।’
করোনার ভয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে হাজারও কর্মজীবীকে শনিবার (৯ মে) কর্মস্থলে ফিরতে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক একটি ফেরি ঘাটে লাগার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ হুমড়ি খেয়ে স্রোতের মতো নামছেন। তাদের চোখে-মুখে একটাই শঙ্কা, শত মাইল পথ, শত ঝক্কি ঝামেলা আর হাজার টাকা খরচ করে আসলাম, গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবো তো? সেখানে করোনা সংক্রমণের ভয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান বলেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে পাঁচটি ফেরি চলাচল করলেও, দৌলতদিয়া প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও দুটি ফেরি সংযোজন করা হয়েছে।
জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছিল। তবে গার্মেন্টস, ঢাকার শপিংমল, বিভিন্ন বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ ফেরিযোগে হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

