নিয়মভেঙ্গে করোনাকালে থানায় প্রীতিভোজ, সমালোচনা ঝড়


madaripur#paperslife

অদৃশ্য শত্রু করোনা আতঙ্কের মধ্যে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ঈদের দিন আয়োজন করা হয় জমজমাট প্রীতিভোজ। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশ উপেক্ষা করেই এই আয়োজন করায় পুরো জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রীতিভোজের বেশ কয়েকটি ছবি যা ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়েও পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান, মাদারীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেয়।

সভায় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, এরমধ্যে ঈদ উপলক্ষে কোন ধরনের অনুষ্ঠান না করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। পরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এই স্বাক্ষরিত চিঠি পৌঁছে দেয়া হয়। অথচ, এই নির্দেশকে উপেক্ষা করেই ঈদের দিন প্যান্ডেল করে জমজমাট ঈদ উৎসব ও প্রীতিভোজের আয়োজন করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

সেখানে অংশ নেয় জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মাদারীপুর জেলার সভাপতি হাফিজুর রহমান যাচ্চু খান, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এ সময় বেশ কয়েকটি ছবি ফেসুবকে আপলোড করেন অনেকেই। যা ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো জেলা জুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

সচেতন নাগরিক কমিটির মাদারীপুরের সভাপতি খান. মো. শহীদ বলেন, যারা নীতি নির্ধারক তারাই যদি ঈদ উৎসব পালন করেন এটা তো নিয়মভঙ্গ করার সামিল। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত রয়েছে কোন ধরনের উৎসব করা যাবেনা, সেখানে পুলিশ প্যান্ডেল করে প্রীতিভোজের আয়োজন করে, কেন তাদের জন্য কি আলাদা নিয়ম? করোনার মধ্যে জেলা পুলিশের এমন উৎসব ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান নিয়ে যেমনি সমালোচনার ঝড় উঠছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাসের গুরুত্বও কমে যাচ্ছে। জনস্বার্থে বিষয়টি পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নজরে এনে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নানের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের হোয়াটস অ্যাপে এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেন, এর দায়ভার জেলা পুলিশ সুপারের।

এদিকে মাদারীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, অনুষ্ঠানে আমারও দাওয়াত ছিল, কিন্তু আমি যাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ ছিল ঘরে বসে ঈদ পালন করার, সেই জন্য আমি এবং আমার পরিবারের সদস্য সবাই ঘরে বসে ঈদ পালন করেছি।

ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (এডমিন) মো. আসাদুজ্জামান (বিপিএম, বার) জানান, ঈদের দিন মূলত পুলিশের সকল সদস্যদের সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করার নিয়ম আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বাইরের কোন মানুষ অংশ নিতে পারবেনা। প্যান্ডেল করে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়টি অবগত নই, তবে খতিয়ে দেখা দেখা হচ্ছে।