কুড়িগ্রামে আজ নতুন করে করোনা শনাক্ত দু’জন রোগী নিজের বাড়ি থেকে নির্দেশনা অমান্য করে একজন চট্টগ্রামের পথে কর্মস্থলে রওনা দিয়েছেন এবং অপরজন নিজ উপজেলার বাইরে ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছিলেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
করোনা নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা হওয়া নারী গার্মেন্টস কর্মীর বাড়ি জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে। তবে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার। বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ২৭ মে ঐ নারীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) তার করোনা পজেটিভের ফলাফল আসে। আমরা প্রতিবেদন পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রোগী চট্টগ্রামে কর্মস্থলের পথে রওনা দিয়েছে। পরে রাত ৮টার দিকে আমরা তাকে বাসায় ফিরে আনার প্রক্রিয়া শুরু করি। তিনি এখন বাসায় ফিরছেন। তার বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে করোনা নিয়ে উপজেলার বাইরে কুড়িগ্রাম সদরে যাওয়া আর এক রোগীর বাড়ি ফুলবাড়ি উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামে। তিনি বিমানবন্দরের কাস্টমস অফিসে কর্মরত। ২০ মে বাড়ি ফেরার পর ২১ মে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং আজ(৩০ মে) তার করোনা পজেটিভ ফলাফল আসে বলে জানিয়েছেন ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।
করোনা নিয়ে বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রশ্নে করোনা শনাক্ত সেই রোগী বলেন,’আমি মোটামুটি সুস্থ্য, এই মহুর্তে আমার কোন উপসর্গ না থাকায় শনিবার সন্ধ্যায় (৩০ মে) ব্যক্তিগত কাজে কুড়িগ্রাম সদরের শাপলা চত্তরে গিয়েছিলাম। তবে সন্ধ্যার পর আমি মোবাইলে করোনা পজেটিভ হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি চলে আসি। আমি গত ১০ দিন যাবৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোয়ারেন্টাইনে আছি।’
নমুনা সংগ্রহ করার পরেও স্বাস্থ্যবিধির অমান্য করার ব্যপারে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনা শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা লকডাউন করতে পারিনা। তবে আমরা তাদের নির্দেশনা প্রদান করে থাকি। এর অংশ হিসেবে ফুলবাড়ি উপজেলার নতুন রোগীর বাড়িতে আমরা নমুনা সংগ্রেহের পর লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছি। এব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।’
উল্লেখ্য, জেলায় আজ নতুন দুজন রোগী সহ মোট রোগীর সংখ্যা দাড়ালো ৬৯ জনে এবং মোট সুস্থ্য হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩২ জন।
পেপার’স লাইফ/কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি/চন্দন কুমার সরকার

