করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে ঢাকার পর ছিল নারায়ণগঞ্জ। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় সংক্রমণকারী স্থান হিসেবে চট্টগ্রাম চিহ্নিত হয়েছে।
ঢাকায় মোট করোনা আক্রান্ত ১৬ হাজার ৯২২ জন। আর চট্টগ্রামে ২ হাজার ৯৮৫ জন। নারায়ণগঞ্জের অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়। সেখানে আক্রান্ত ২ হাজার ৯২৩ জন।
গত ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই ব্যক্তি তার ওমরা ফেরত মেয়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হন। ৫ এপ্রিল দ্বিতীয় করোনা রোগী শনাক্ত হন ওই ব্যক্তির ২৫ বছর বয়সী ছেলে। এর পর এক-দুই করে চট্টগ্রামে করোনার পরিস্থিতি অবনতি হতে শুরু করে।
তবে গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোশাক কারখানাগুলো চালুর সঙ্গে সঙ্গে নগরের অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। এর পরে ধারণার চেয়ে দ্রুতগতিতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের প্রায় এক মাস পরে করোনা সংক্রমণ শুরু হয় চট্টগ্রামে। কিন্তু সংক্রমণ শুরুর প্রথম মাসে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় মাসে চট্টগ্রামে করোনার বিস্ফোরণ ঘটে।
করোনা সংক্রমণে দেশে এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকা চট্টগ্রাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় উন্মুক্ত থাকায় চট্টগ্রামে করোনার বিস্তার ঘটছে দ্রুত।
গতকাল চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ২৭২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৫ জনের এবং সিভাসু ল্যাবে ১৩০টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। তবে কক্সবাজার ল্যাবে চট্টগ্রামের ৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।
এ ছাড়া এইদিন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবের ফল পাওয়া যায়নি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ জন চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার এবং ২৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৮৫ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৫ জন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২২৪ জন।
এদিকে তৃতীয় স্থানে থাকা নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৫ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৯২৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

