বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এরপর পেরিয়েছে তিন মাসের অধিক সময়। এরই মাঝে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা।
শনাক্ত ও মৃত্যু-দুই ক্ষেত্রে দেশে সর্বোচ্চ হার ঢাকা মহানগরীসহ ঢাকা বিভাগে। দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ-শনাক্ত যত বাড়ছে, ঢাকায় এই হার ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। বাড়ছে বাইরের বিভিন্ন অঞ্চলে।
এক মাস আগের তথ্যের সঙ্গে সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। গত ৯ মে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ছিল ৮৪ শতাংশ, গতকাল তা নেমে এসেছে ৬৮.৮ শতাংশে। অন্যদিকে এক মাস আগে চট্টগ্রামে শনাক্ত ছিল ৪ শতাংশের নিচে, যা এখন উঠে এসেছে ১৬ শতাংশে।
গত মাসে দেশজুড়ে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশ যেখানে ঢাকায় ছিল, এখন এই হার প্রতিদিন একটু একটু করে কমে বাড়ছে ঢাকার বাইরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত করোনায় দেশে যে এক হাজার ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা বিভাগে (৫৯৯), বাকি ৪০ শতাংশ (৪১৩) ঢাকার বাইরে অন্য বিভাগে। এ ক্ষেত্রে শনাক্তের পাশাপাশি মৃত্যু বাড়ছে চট্টগ্রামে (২৬৭)।
রোগতত্ত্ববিদ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় প্রতিদিনকার সংক্রমণ আগের চেয়ে আনুপাতিক হারে কমছে। কিন্তু আগে ঢাকার বাইরে বিস্তার ছিল খুবই কম। পরে ঢাকা থেকে মানুষ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে সংক্রমণের বিস্তার বেড়ে গেছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনের তথ্যানুসারে শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৩৭ জনের মৃত্যুসহ দেশে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৪৯ জনের। আর এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন তিন হাজার ১৮৭ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার ৫২ জনের। এই ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৮৪৮ জন। মোট সুস্থ হয়েছে ১৬ হাজার ৭৪৭ জন।

