শনিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়ায় একটি পাকিস্তানি ড্রোন গুলি করে নামাল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ। ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তে ওই ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয় বলে জানা গেছে। গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দশ্যেই ড্রোনটি ভারতীয় আকাশসীমায় ঢুকেছিল বলে সূত্রের খবর।
কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার হীরানগর তালুকে রাঠুয়া গ্রামে ড্রোনটিকে গুলি করে নামায় বিএসএফ-এর ফরওয়ার্ড পোস্ট। বিএসএফ-এর ১৯ ব্যাটেলিয়েনের টহলদারি দল প্রথম হীরানগর সেক্টরের রাঠুয়া গ্রামের ওপর ড্রোনটিকে উড়তে দেখে। এদেশে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির জন্য আকাশ থেকে অস্ত্রশস্ত্র ফেলার জন্য এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ড্রোনটি ভারতে প্রবেশ করে বলে জানা গিয়েছে। ড্রোনটিকে গুলি করে মাটিতে নামানোর পর তার মধ্যে থেকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
ওই পাকিস্তানি ড্রোনের ভেতর থেকে একটি এম-৪ আমেরিকায় তৈরি রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড বুলেট এবং সাতটি গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে। শনিবার ভোর ৫.১০ মিনিটে ড্রোনটিকে গুলি করে নামানো হয়। সাব-ইন্সপেক্টর দেবেন্দ্র সিং ড্রোনটিকে নামাতে আট রাউন্ড গুলি চালান। পানসারের বর্ডার আউটপোস্ট-এর কাছে ড্রোনটিকে নীচে নামানো হয়।
ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ২৫০ মিটার ভারতের ভেতরে নামানো হয় ড্রোনটিকে। ড্রোনের প্লেলোডে আলি ভাই নামে একজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। এই আলি ভাইয়ের জন্যই অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কে এই আলি ভাই, তার খোঁজ চলছে। আট ফুট চওড়া ড্রোনটিকে সীমান্তের ওপার থেকে পাক ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ করছিল বলে মনে করছে বিএসএফ।
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, কয়েক মাস আগে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে নারগোটার টোলপ্লাজা দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছিল কয়েকজন জৈশ-ই-মহম্মদের সন্ত্রাসবাদী। তাদের এ দেশে ঢোকার চেষ্টা বানচাল করে দেয় বিএসএফ। ওই সন্ত্রাসবাদীদের কাছ থেকেও একই ধরনের অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া যায়। কাশ্মীরে জৈশ-ই-মহম্মদের সন্ত্রাসবাদীদের কাছে এই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এর আগেও এ দেশে অস্ত্র পাচার করার একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয় পাকিস্তানের।
সুত্র: এই সময়।

