জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে যে ইস্যুগুলো তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে যে ইস্যুগুলো তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে নিজ ভাষণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে (বাংলাদেশ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা ২৭ মিনিট) সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে বাংলায় দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতি অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। মানব পাচার, মাদক চোরাচালানসহ আন্তসীমান্ত অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা সর্বস্তরে ব্যাপক হতাশা সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরিতে দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয়, জাতিসংঘসহ অন্য অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সত্ত্বেও একজনও তাদের মাতৃভূমিতে এ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো যায়নি।

রোহিঙ্গা সংকট উগ্রবাদকেও ইন্ধন দিতে পারে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সংকট প্রলম্বিত হতে থাকলে তা উপমহাদেশসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

গত মাসে নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে গণহারে বাংলাদেশে প্রবেশের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে । বিষয়টি উল্লেখ করে অধিবেশনের সভাপতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরও দুরূহ করে তুলেছে। আশা করি, এ বিষয়ে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বা একতরফা জবরদস্তিমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞার মতো বৈরী পন্থা কখনো কোনো জাতির মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনাই সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তির সর্বোত্তম উপায়।

এর সংকটের অবসান চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে নারী, শিশুসহ গোটা মানবজাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়। এর প্রভাব কেবল একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সব মানুষের জীবন-জীবিকা মহাসংকটে পতিত হয়; মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়; খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়।

আরও পড়ুন : নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্থান করে নিল বাংলাদেশের মেয়েরা

করোনা মহামারী:

২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে টিকা পাওয়ার যোগ্য শতভাগ মানুষকে আমরা টিকা দেয়া হয়েছে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টিকার ব্যবস্থা করায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মহামারি থেকে আমাদের নিরাপদ উত্তরণের মূল চাবিকাঠি টিকা। এই টিকা সরবরাহের জন্য আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও এর কোভ্যাক্স ব্যবস্থা এবং আমাদের সহযোগী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানাই।’

বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীজনদের কাছে বর্ধিত এবং কার্যকর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নীত হওয়ার পথে। তবে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংকট আমাদের টেকসই উত্তরণের পথে গুরুতর প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে অংশীজনদের কার্যকর পদক্ষেপ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।