কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে নেমে ৩ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, একই সাথে উত্তাল ঢেউয়ের স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন পর্যটক। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির ম্যারিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকত এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডিতে পর্যটন শহরজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের সূত্রমতে জানা যায়, বন্ধুদের একটি দল বিকেলে হিমছড়ি সৈকতের ম্যারিনা রিসোর্ট সংলগ্ন পয়েন্টে সাগরে নামেন। সৈকতের ওই অংশটিতে তীব্র গুপ্তস্রোত এবং প্রচণ্ড ঢেউ বিদ্যমান ছিল। পানিতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন যুবক উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে হাবুডুবু খেতে থাকেন। বন্ধুদের বিপদে পড়তে দেখে তীরে থাকা অন্যরাও তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান। কিন্তু সমুদ্রের চোরা স্রোতের টানে একে একে সবাই গভীর পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে অবিলম্বে উদ্ধারে নামেন। তারা চারজনকে পানি থেকে টেনে তুলতে পারলেও ততক্ষণে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় অপরজনকে উদ্ধার করে দ্রততম সময়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই রামু উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। অন্ধকারের মধ্যেও নিখোঁজ বাকি দুই পর্যটককে খুঁজে বের করতে সৈকতের বিশাল এলাকা জুড়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনা নিশ্চিত করে জানান যে, সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নিখোঁজদের জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক না কেন, সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের মূল শহরের সুগন্ধা বা লাবণী পয়েন্টের মতো হিমছড়ি সৈকতে সার্বক্ষণিক বিচকর্মী বা লাইফগার্ডের পর্যাপ্ত উপস্থিতি থাকে না। সমুদ্রের এই অংশে হঠাৎ করে গভীরতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র গুপ্তস্রোত কাজ করে। লাল পতাকা টাঙানো কিংবা সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক না বুঝেই নেমে পড়েন গভীর পানিতে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমছড়ি ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সৈকতগুলোতে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়াতে নিয়মিত টহল ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি। নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা বা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে সাগরে নামার কারণেই প্রতিনিয়ত এরকম অপ্রীতিকর দুর্ঘটনা ঘটছে।

