সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে বিপর্যস্ত কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক এলাকার মানুষ। তবে কলকাতায় মানুষের যত ক্ষতি হয়েছে সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে গাছেরও।
এ বিষয়ে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানান, প্রায় ৫ হাজার গাছ পড়েছে এই আম্পানের তাণ্ডবে। সেইসাথে কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে শহর কার্যত গাছের শ্মশানে পরিণত হয়েছে।
উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কোথাও বাদ নেই। এর মধ্যে উত্তর কলকাতার রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট, বিবেকানন্দ রোড, বাগবাজার স্ট্রিট, বিধাননগর রোড, ক্যানাল ইস্ট রোড, ক্যামাক স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, বেহালা, লেক চত্বর, কসবা, গল্ফ গ্রিন, ঢাকুরিয়া, বালিগঞ্জ, যাদবপুর তালিকায় বাদ নেই কোনও পাড়াই।
ঝড়ের দাপট কিছুটা কমতেই শহরের সব প্রান্ত থেকে খবর আসতে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং পুরকর্মীদের কাছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শহরের রাজপথগুলো ফের দ্রুত যাতায়াতের উপযুক্ত করে তুলতে পথে নামেন তাঁরা।
তখনও মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে। সেই পরিস্থিতিতেও দমে না গিয়ে বৈদ্যুতিক করাত হাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। যেখানে গাছের আকার প্রকাণ্ড, সেক্ষেত্রে গাছ কেটে টুকরো করে রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখা হয়।
না হলে গোটা গাছটাকেই ঠেলে পথের পাশে সরিয়ে রাজপথ গাড়ি চালানোর উপযুক্ত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু, এই পরিস্থিতি সামলানো মাত্র ১২০ জন কর্মীর কাজ ছিল না।
বিকাল হওয়ার পরেও শহরের বেশির ভাগ জায়গাই বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকার হয়েই রইল। পানীয় জলের অভাবে বহুতল থেকে বস্তি সবাই একরাশ বিরক্তি নিয়ে লাইন দিলেন পুরসভার কলে।

