কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
‘ওরা বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে’,
কথাটি বলেই ছুটে চলে যান বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউন এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের ক্লাস ওয়ান পড়ুয়া সাত বছরের শিশু পুত্র আবরার মুতাদি আদিব। এরপর মন ভার করে মুখে হাত দিয়ে বসে থেকে আর কোন কথা বলেনি সে। গতকাল(১৪ মার্চ) বিকেলে সাংবাদিক আরিফুলের কুড়িগ্রাম শহরের ভোকেশনাল মোরের কৃষ্ণপুরস্থ বাসায় গেলে এমন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।
আরিফুল ইসলামের দুই পুত্র আবরার মুতাদি আদিব(৭) ও আফফান মুহাম্মদ আরিস(২) এবং স্ত্রী মোস্তারিনা সরদার নিতুকে নিয়ে ছিমছাম পরিবার। স্ত্রী নিতু বলেন, বাচ্চারা ওদের বাবার খুব ভক্ত। রাতে ওদের বাবাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর ওরা ভয়ে কান্না শুরু করে দেয়।
বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী ও সংবাদকর্মীদের ভিড়। স্বজনরা জানান, পরিবারের সবাই সাংবাদিক আরিফুলকে বাবু বলে ডাকেন। তিনি পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের কাছে অনেক প্রিয় ও আদরের। বাবা-মা গত হয়েছেন আরিফুলের। বোনদের সবার বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছেলে সন্তান হিসেবে বর্তমানে তিনিই(আরিফুল) পরিবারের প্রধান ব্যক্তি। প্রতিবেশীরা বলেন, আরিফুল খুব ভালো মানুষ। কখনও কোন খারাপ কাজে যায় না, ভালো মানুষের সাথে কেন যে এমন হলো আল্লাহ্ জানে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ধরে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। এ সময় তার বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়, যদিও আরিফ ধূমপান করেন না। আরিফের স্ত্রী জানান, মধ্যরাতে কিছু আগন্তুক তাদের বাসায় এসে দরজা ধাক্কাতে থাকেন ও দরজা খুলতে বলেন। আরিফ তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় দেননি। এরপর আরিফ কুড়িগ্রাম থানায় যোগাযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ তার বাসায় কোনও অভিযান চালানো হয়নি বলে নিশ্চিত করেন। এরমধ্যেই আগন্তুকরা দরজা ভেঙে তার বাসায় প্রবেশ করে। তবে তারা কোনও তল্লাশি অভিযান চালায়নি। তারা বাসায় ঢুকেই কোনও কারণ না জানিয়ে আরিফকে মারতে মারতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় কয়েকবার গুলি করার হুমকিও দেয় আগন্তুকরা। এর এক ঘণ্টা পর থানা পুলিশ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাকে খুঁজে পায়।
প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে নামকরণ করতে চেয়েছিলেন। আরিফুল এ বিষয়ে নিউজ করার পর থেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ডিসি। এছাড়া, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ নিয়ে ডিসি সুলতানা পারভীনের অনিয়ম নিয়েও প্রতিবেদন তৈরি করেন তিনি। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন।

