ভারতে সামাজিক দূরত্ব মেনে লাভ হয়েছে বলে উল্লেখ করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এসব জানান তিনি।
তিনি বলেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ভালো করলেও সামনের পথ কঠিন। এই জন্য ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় গরিব মানুষের স্বার্থে ২০ এপ্রিলের পর কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে বলে জানান মোদি।
মোদি বলেন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারত খুব ভালো লড়াই করছে। যতটা ক্ষতি হতে পারত, তার থেকে অনেকটাই কম হয়েছে দেশবাসী নিয়ম মান্য করায়।
জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে মোদি বলেন, আপনাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। দেশের স্বার্থে অনুগত সৈনিকের মতো আপনারা কাজ করছেন, এটাকে আমি সম্মান করি। যখন করোনার কোনও কেস ছিল না, তার আগে থেকেই বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং শুরু করা হয়।
করোনা রোগীর সংখ্যা ১০০ পেরোনার আগেই বাইরে থেকে আসা বিদেশিদের কোয়ারেন্টাইন করার সিদ্ধান্ত করা হয়।
৫৫০ কেসের আগেই দেশে লকডাউন করা হয়। সমস্যা বাড়ার আগেই দেশ করোনা প্রকোপ রোখার চেষ্টা করেছে।
বিশ্বের বড় সামর্থ্য পূর্ণ দেশে করোনার যা হাল, তার থেকে ভারতে পরিস্থিতি অনেক ভালো। অন্য অনেক দেশে ভারতের তুলনায় ২৫-৩০ গুণ বেশি লোক করোনায় আক্রান্ত।যদিও দেড় মাস আগে এই দেশগুলি ভারতের পরিস্থিতিতেই ছিল।
ভারত ইনটিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ, হোলিস্টিক অ্যাটিচিউডের মাধ্যমে ভারত করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে। সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং ও লকডাউনের বড় লাভ পাওয়া গিয়েছে।
আর্থিক দৃষ্টিতে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু দেশবাসীর প্রাণের কাছে তা কিছু নয়। সারা বিশ্ব আজ ভারতকে প্রশংসা করছে তার লকডাউনের জন্য ।রাজ্য সরকারগুলি সাধ্যমতো করছে। ২৪ ঘণ্টা ধরে কর্মীরা নিরলস পরিশ্রম করছেন।
সবার একই পরামর্শ যে লকডাউন বৃদ্ধি করা হোক। এবং সিদ্ধান্ত এই যে লকডাউন চলবে ৩ মে পর্যন্ত। কোনও ভাবেই করোনা নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না। একটা জায়গাতেও করোনা কেস বৃদ্ধি হওয়া চলবে না।
হটস্পটের ওপর বিশেষ নজর রাখতে হবে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কড়া ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে লকডাউন। কোন অঞ্চল লকডাউন ভালো ভাবে মানা হচ্ছে সেটা দেখা হবে। ২০ এপ্রিল থেকে কিছু জায়গায় সীমিত ছাড় মিলবে। গরিবদের কথা মাথায় রেখেই এই সুবিধা দেওয়া হবে ।
শেষে মোদি বলেন, ধৈর্য ধরে, নিয়ম পালন করলে করোনার মতো মহামারিকে হারানো সম্ভব। নিজের বাড়ির বয়স্ক মানুষদের খেয়াল রাখুন। যারা আগে থেকে অসুস্থ তাদের ওপর খুব খেয়াল রাখতে হবে। লকডাউন ও সামাজিক দূরত্বের পালন করুন। মাস্ক ব্যবহার করুন।
সূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস

