করোনাভাইরাস সংক্রমনের উপসর্গ থাকায় কুড়িগ্রামে আরও ৯ ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) জেলা সদর, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা থেকে ওই নয় ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় তিন জন, ভূরুঙ্গামারী ও উলিপুর উপজেলায় দুই জন করে চার জন এবং রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা থেকে এক জন করে মোট নয় জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার মোঘোলবাসা ইউনিয়ন থেকে দুই জন ও ভোগডাঙা ইউনিয়ন থেকে এক জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরা সবাই ঢাকা ফেরত। এদের মধ্যে কিছু উপসর্গ থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল পৌর এলাকা থেকে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা এখন অনেক ভালো আছেন বলে জানান ডা. নজরুল।
ভূরুঙ্গামারী উপজলো স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ সায়েম জানান, উপজেলার আরও দুটি ইউনিয়ন থেকে দুই ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এদের একজন নির্মাণ শ্রমিক আর একজন মাছ বিক্রেতা। তারা উভয়ে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন।
এই চিকিৎসক আরও জানান, এদের মধ্যে মাছ বিক্রেতা ব্যক্তি ঢাকায় যে এলাকায় ছিলেন সেখানে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে সেজন্য সতর্কতামূলক তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে সুস্থ্য রয়েছেন।
অপর ব্যক্তির জ্বর সর্দি থাকলেও তার অবস্থা বর্তমানে ভালো আছে। তবুও সতর্কতা হিসেবে ওই দুই ব্যক্তি সহ তাদের পরিবারের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এ রাখা হয়েছে।
এদিকে জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দুই ব্যক্তি জ্বর-সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের মধ্যে এক ব্যক্তির ভাই সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন।
অপর ব্যক্তি ওই ব্যক্তির সাথে ঘোরাফেরা করেছেন। এবং তিনিও সর্দি জ্বর সহ কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় তারও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সুভাস চন্দ্র।
এছাড়াও জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা থেকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে দুই ব্যাক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় স্বাস্থ্য বিভাগ।
এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তাদের করোনা সংক্রমন পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান,আগের সাত জন সহ মোট ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
পূর্বের সাত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ নিয়ে অহেতুক কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন।
পেপার’স লাইফ/খবর/চন্দন কুমার সরকার,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

